

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ২ বছর আগে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সেখানেই চলছে পাঠদান। এরই মধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে বের হয়ে এসেছে রড। ফাটল ধরেছে পিলার ও বিমে। কখন যেন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে, এমন উৎকণ্ঠা নিয়েই পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে বালারহাট হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। এবতেদায়ী থেকে আলিম পর্যন্ত লেখাপড়া চলছে। ফলাফলের দিক দিয়েও এগিয়ে আছে মাদ্রাসাটি। প্রতিষ্ঠানটির এক তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯০ সালে। এরপর সংস্কার করা হয়নি। এতে বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের অবস্থা সবচেয়ে জরাজীর্ণ। ২ বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ভবনের বাইরেও কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, সেগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। পুরোনো ভাঙা টিনের ছাউনির কয়েকটি কক্ষে চলে পাঠদান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন কক্ষবিশিষ্ট পরিত্যক্ত ভবনটির একটিতে রয়েছে শিক্ষক মিলনায়তন। অন্য দুই কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ভবনটির প্রতিটি পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সামনের অংশের বিম ভেঙে গেছে। ভেতরের বিমগুলোর অবস্থাও বেহাল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫০ জন।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহজাবিনের ভাষ্য, শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। কখন যেন ছাদ ভেঙে পড়ে। একই কথা জানায় ফাহমিদা আরেফিনসহ কয়েকজন। অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। যে কোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সন্তানকে পাঠাতে ভয় হয়।
সহকারী শিক্ষিকা (সমাজ বিজ্ঞান) হাসনা হেনা বলেন, ২ বছর আগে একাডেমিক ভবনের ছাদ ধসে পলেস্তারা পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তারপর ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবণেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
বালারহাট হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তাহেরুল ইসলাম বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় ফল ভালো হলেও অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। একমাত্র একাডেমিক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত রতন বলেন, প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পরও তেমন কোনো সংস্কার হয়নি। শিক্ষকরা ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন। পরিত্যক্ত ভবনটির সংস্কার জরুরি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মোমেন মন্ডল বলেন, মাদ্রাসার পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়টি ইউএনও সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, বালারহাট হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়ে জেনেছি। নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
