ঢাকা
১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১১:৪১
logo
প্রকাশিত : জুন ১৪, ২০২৬

বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ

‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির ভিত্তিতে খাতভিত্তিক নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ‘সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা’ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উদ্দেশ্য মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ব্যবস্থা চালু করা। এতে শুধু প্রযুক্তি খাতেই প্রতিবছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় পর্যায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভ সেক্টরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ থাকবে।

এ পদক্ষেপ শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়; বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে হাঁস, মুরগি, পশু পালন, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার, পরিবহন শ্রমিকমহ সবার জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যৌক্তিক মজুরি নিশ্চিত হবে।

ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং এবং বিদেশি ভাষা শেখানোর মতো বাজারমুখী প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও স্টার্টআপ উদ্যোগকে সহায়তা করার জন্য শিল্প একাডেমির সম্পর্ক জোরদার এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ (১,৩৬,৬০৬ কোটি টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিদেশে তৃতীয় ভাষা শেখার জন্য তরুণদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্টুডেন্ট ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ জনগোষ্ঠী। এ বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে হলে আমাদের এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে প্রতিটি তরুণ জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়, যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অবশ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যে বাজেট উপস্থাপন করে তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে ‘তারুণ্যের উৎসব’ এবং নতুন স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ তহবিল মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তরুণদের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকাকে ৫ কোটি যুব জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে জনপ্রতি পরোক্ষ বরাদ্দ আসে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ টাকা। শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার মূল বাজেট থেকে হিসাব করলে জনপ্রতি সরাসরি প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন বরাদ্দ পড়েছিল প্রায় ৪৮৪ টাকা। সে হিসেবে বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের সামগ্রিক বরাদ্দ ধরে হিসাব করলে অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় তরুণদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বেড়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

এদিকে বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়তে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির কথাও উঠে আসে প্রস্তাবিত বাজেটে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রীড়া খাতকে শুধু বিনোদন নয়, বরং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির অধীনে আয় ও কর্মসংস্থানমুখী একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ‘ক্রিয়েটিভ’ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা। দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে; যেমন- ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গার ওপর পিপিপি মডেলে বিশ্বমানের একটি ‘সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপনের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি’ মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বিকল্প ক্রিয়েটিভ চিন্তা করেছেন এটা ভালো। ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ সম্ভবত খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে উঠে এসেছিল; কিন্তু সেটা চাপা পড়ে গিয়েছিল, সেটা আর হয়নি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যদি এটা করা যায়, আর এখন তো ইউনেস্কোর স্বীকৃত অনেক পণ্য আছে; যেমন- শীতলপাটি, জামদানি। এ পণ্যগুলো যদি প্রমোট করা যায়, সেটা অবশ্যই ভালো।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, কর্মসংস্থান সংকট সমাধানের জন্য সরকার ও নীতিনির্ধারকদের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যকার বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। কারণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ সমাজ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জাতি গঠন করা সম্ভব।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram