

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার বিকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মোবাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এই ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল ও নিরাপদভাবে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুযায়ী রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা গেছে।
এর পরের ধাপ ‘বি-২’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি বা স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন। এ প্রক্রিয়ায় চুল্লির ভেতরে পরমাণুর বিভাজনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শক্তি উৎপাদন বাড়ানো হয়। উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহও শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য এ সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
