

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় অসহায় তিনটি পরিবারের জন্য নির্মিত ‘স্বপ্নবিলাস’ নামে তিনটি নতুন বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০২ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে ম্যামস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।
ম্যামস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘নাহার’ নামের একটি সংস্থার অর্থায়নে এ মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।
উদ্যোগের আওতায় নির্মিত তিনটি বাড়ির মধ্যে একটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নে এবং দুটি সাতকানিয়া উপজেলায় নির্মাণ করা হয়। বাড়িগুলোর উপকারভোগীরা হলেন—লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের সুফিয়া খাতুন, সাতকানিয়ার দক্ষিণ ঢেমশা এলাকার দিলুয়ারা বেগম এবং ছদাহা ইউনিয়নের বুলু আক্তার।
উপকারভোগীদের নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ম্যামস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের কর্মকর্তারা তাঁদের হাতে প্রতীকী চাবি তুলে দেন। ছদাহা ইউনিয়নে বুলু আক্তারের বাড়ি উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে ম্যামস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিরাপদ আবাসন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করতে চাই। মানুষের জীবনে একটু স্বস্তি ও আশার আলো ফিরিয়ে আনাই আমাদের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, একই উদ্যোগের আওতায় দুই ধাপে ১০২ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম ধাপে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এবং দ্বিতীয় ধাপে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল অসহায় নারীদের যাচাই-বাছাই করে এ সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়। সাতকানিয়ায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “একটি নিরাপদ বাড়ি শুধু আশ্রয় নয়, একটি অসহায় পরিবারের নতুন করে স্বপ্ন দেখার ভিত্তি। সমাজের অসহায় পরিবারগুলোর জন্য ‘স্বপ্নবিলাস’-এর মতো নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে পারা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক প্রচেষ্টার অংশ।”
এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে আরও যুক্ত ছিলেন সমাজ সংগঠক ও মানবিক কর্মী শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইমন, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী কুতুব উদ্দীন, ফার্মাসিস্ট ইকবাল হোসেন, মো. মিজান, স্মার্ট ভিলেজের পরিচালক রাকিবুল ইসলাম ও হাফেজ মোহাম্মদ রিপন।
স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
