ঢাকা
১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ভোর ৫:২১
logo
প্রকাশিত : মে ৫, ২০২৬

বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে দেড় টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

গতকাল সোমবার পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয় করা হবে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সাধারণত বিতরণকারী সংস্থাগুলো বিইআরসিতে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে থাকে। তবে এবার বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)সহ অন্যান্য বিতরণ সংস্থাগুলো প্রস্তাব তৈরি করছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব প্রস্তাব কমিশনে জমা পড়তে পারে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাব পেলে আইন অনুসারে পর্যালোচনা ও গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেছেন, তারা প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। কমিশন এরপর বিধি অনুযায়ী গণশুনানি করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব ঠিক থাকলে জুনের শুরুতেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান এবং বিপুল ভর্তুকির চাপ মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের চেয়ে গড়ে প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির ঘাটতি ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুসারে, মাসে ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১.৩৮ টাকা এবং ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। দেশে মোট প্রায় ৪ কোটি ৯৭ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামে পড়বে, যা জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

এ ছাড়া অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মেঘনাঘাট, আরপিসিএল-নোরিনকোর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র ও রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মতো প্রকল্পগুলো এই আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়। তখন প্রতি ইউনিটের গড় খুচরা মূল্য ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। একই সময় পাইকারি মূল্যহার ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram