

সম্প্রতি যমুনা অয়েল ফতুল্লা ডিপো থেকে সোয়া লাখ লিটার তেল গায়েবের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা তদন্তে গঠিত বিপিসির কমিটি গত ১১ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ২৫টি পর্যবেক্ষণ ও ১৩টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় দুই মাস সময় পেরিয়ে গেলেও তেল চুরির এ মহাপরিকল্পনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিপিসির তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ফতুল্লা ডিপোর গেজার (তেল পরিমাপক) ও সিবিএর কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন টুটুলের ডিপো নিয়ন্ত্রণের তথ্য। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, টুটুলকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা ডিপোতে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যাদের মাধ্যমে ফতুল্লা ডিপোর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোহাম্মদ ইকবালকে ইলেকট্রিশিয়ান পদ থেকে গেজার হিসেবে পদায়নে টুটুল সুপারিশ করেন। ডিপোর স্থায়ী, অস্থায়ী ও দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ, পদায়ন ও বদলিতে টুটুল সরাসরি সম্পৃক্ত কিংবা প্রভাব বিস্তার করেন।
যমুনা অয়েলের ফতুল্লা ডিপোর ট্যাংকে তেল কম হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখছে।-বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান
কমিটিকে দেওয়া বক্তব্যে ক্যালিব্রেটর প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কর্ণধার আবুল মনজুর ‘ক্যালিব্রেশন ত্রুটির পেছনে কারও স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে’ বলে উল্লেখ করেন।
ফতুল্লা ডিপোর ট্যাংক-২২ এর রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরিয়ান ট্রেডিংয়ের নিয়োজিত ক্যালিব্রেটর মেসার্স এস এম নুরুল হকের ম্যানেজার আবদুস সাত্তার তদন্ত কমিটিকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, খসড়া ক্যালিব্রেশন চার্ট পাঠানোর পর ফতুল্লা ডিপো সুপার এবং বিএসটিআই কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যালিব্রেশন চার্ট সংশোধন করেছেন।
তদন্ত কমিটির ১৩ সুপারিশ
সরবরাহ করা সব পার্সেলের মোট পরিমাণ বিবেচনায় যমুনা অয়েলের লোকসান শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ অন্য দুই কোম্পানি পদ্মা অয়েলের শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশের তুলনায় বেশি। তিনটি কোম্পানির সরবরাহ করা মোট পরিমাণ বিবেচনায় পাইপলাইনের সামগ্রিক লোকসান শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ কমিটির কাছে অত্যধিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে, পরবর্তী পার্সেলগুলোতে প্রোডাক্ট লোকসানের বিষয়ে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাইপলাইনের নিয়মিত অপারেশন চালু রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করাও জরুরি।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ক্যালিব্রেশন চার্ট প্রণয়নে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মেসার্স এস এম নুরুল হকের কাছ থেকে ক্যালিব্রেশন সেবা গ্রহণ না করার জন্য বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনার পাশাপাশি বিএসটিআইকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে, ট্যাংক নম্বর-২২ রক্ষণাবেক্ষণে কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার মেসার্স আরিয়ান ট্রেডার্সকে কারণ দর্শানো এবং প্রয়োজনে তাদের রিটেনশন মানি বাজেয়াপ্ত করার জন্য যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দিতে হবে।
কোম্পানিভিত্তিক লোকসান, অন্য পার্সেলে পাওয়া গেইনের সঙ্গে সমন্বয় করা; প্রথম দুই পার্সেলে লোকসান হওয়া ২ লাখ ৬২ হাজার ৪০৮ লিটার ডিজেল চাপ, তাপমাত্রা ও ঘনত্ব পরিবর্তনজনিত কারণে লাইনপ্যাক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; মেসার্স এস এম নুরুল হকের প্রতিনিধির সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ট্যাংক-২২ ও ২৩ এর ত্রুটিপূর্ণ ক্যালিব্রেশন চার্ট প্রণয়নের নির্দেশনা ও সঠিক ক্যালিব্রেশন অনুযায়ী ট্যাংক বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ থাকায় ফতুল্লা ডিপো সুপার আসলাম খান আবুল উলায়ীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া আরও সুপারিশ করা হয়:
ট্যাংক ক্যালিব্রেশনের কার্যাদেশ দেওয়ার পর যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান না করায় যমুনা অয়েলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. আলমগীর আলমকে সতর্ক করা।
যা বলছে যমুনা অয়েল ও বিপিসি
তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, ‘আমরা এজিএম নিয়ে একটু ব্যস্ত আছি। পরে প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, ‘যমুনা অয়েলের ফতুল্লা ডিপোর ট্যাংকে তেল কম হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দেখছে।’
সুত্র: জাগো নিউজ
