ঢাকা
logo
প্রকাশিত : January 29, 2026

বৈদেশিক ঋণপ্রবাহে ভাটা পরিশোধে চাপ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়—দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সময় আগের নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বেড়েছে, যা বৈদেশিক লেনদেন ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৩.৪২ শতাংশ এবং অর্থছাড় কমেছে ২৯.২৩ শতাংশ। তবে এ সময় ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের অঙ্ক বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকার পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ খুব বেশি বাকি নেই। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতিগত পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণা থেকেই উন্নয়ন সহযোগীরা আপাতত অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্বে এলে ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের গতি আবার বাড়তে পারে বলে আশা করছে ইআরডি।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময় বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মোট ১৯৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ কমেছে ১৩.৪২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এর বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অনুদান ছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং ঋণ ছিল ২০০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অন্যদিকে অর্থছাড়ের চিত্র আরো উদ্বেগজনক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বৈদেশিক অর্থছাড় হয়েছে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৩৫৩ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরে অর্থছাড় কমেছে ২৯.২৩ শতাংশ।

এই অর্থছাড়ের মধ্যে চলতি অর্থবছরে ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ২২৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং অনুদান পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময় ঋণ পাওয়া গিয়েছিল ৩২৬ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ২৭ কোটি ছয় লাখ ৪০ হাজার ডলার।

এদিকে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় দুই হাজার ৬৭৭ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার (এক হাজার ৭৩৮ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৯ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার (৯৩৮ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা)। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময় ঋণ পরিশোধের মোট অঙ্ক ছিল ১৯৮ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তখন আসল পরিশোধ হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং সুদ পরিশোধ হয়েছিল ৭৪ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

অর্থছাড়ের দিক থেকে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সংস্থাটি ৫৪ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ডলার ঋণছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যারা ঋণছাড় করেছে ৫১ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান মিলিয়ে ঋণছাড় করেছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ডলার।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. মো: জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram