ঢাকা
logo
প্রকাশিত : January 3, 2026

লেনদেন শুরু হলেও সব শাখায় টাকা তুলতে পারেননি গ্রাহকরা

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। তবে কিছু জায়গায় গ্রাহক ভোগান্তির তথ্যও পাওয়া গেছে। অনেক শাখায় টাকা তুলতে পারেননি গ্রাহকরা। আগামী রবিবার বা সোমবার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছে একীভূত ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা। এদিকে প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখার সাইনবোর্ড বদলে ফেলা হলেও আপাতত আগের নামও থাকছে। ধীরে ধীরে সব সাইনবোর্ড বদলে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়েক জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ব্যাংকগুলো একীভূত হলেও টাকা প্রদানে এখনো পর্যন্ত ভোগান্তি কমেনি। ব্যাংকগুলোর সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা প্রদানের কথা থাকলেও অনেক শাখায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু করেছে। আবার অনেক গ্রাহক কিছু ব্যাংকের ২ লাখ টাকা পর্যন্তও উত্তোলন করেছেন।

রাজধানীর একীভূত ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখায় বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনে তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ম্যানেজাররা বলছেন, টাকা উত্তোলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম দিন হওয়ায় গ্রাহকরা সেভাবে আসেননি। তবে চলতি সপ্তাহ থেকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন বাড়বে বলে জানান।

রামপুরার বনশ্রীতে অবস্থিত এক্সিম ব্যাংকের শাখায় দেখা যায়, গ্রাহকদের তেমন উপস্থিতি নেই। তবে যারা এসেছেন তাদের একজন এইচ রহমান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন থেকে তুলতে পারছি না। বৃহস্পতিবার থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে—এই খবরে ব্যাংকে টাকার জন্য এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে। ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, আগামী রবিবার বা সোমবারের পর আসতে।

একই চিত্র দেখা যায় এক্সিম ব্যাংকের কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের শাখায়। সেখানেও গ্রাহকদের তেমন উপস্থিতি নেই। তবে কিছু গ্রাহক এলেও কেউ টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের রবিবারের পর আসতে বলা হয়েছে। সেখানে মঈনুল হোসেন নামে একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েক মাস থেকে নিজের টাকা ব্যাংকে পড়ে থাকলেও অন্যদের থেকে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে।

একই ধরনের চিত্র দেখা যায় সাবেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি ও মিরপুর শাখায়। সেখানে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘২ লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা তোলা যাচ্ছে।’ ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার রেজয়ান হাসান বলেন, ‘আমাদের শাখায় বৃহস্পতিবার ফান্ড না আসায় আমরা গ্রাহকদের সেভাবে সাপোর্ট দিতে পারিনি। তবে স্বল্প পরিমাণের অর্থগুলো দিয়েছি। আশা করছি বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী এই সপ্তাহ থেকে টাকা দিতে পারব।’

তবে মহাখালী শাখায় গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন বলে জানিয়েছেন সেখানের ম্যানেজার কে এম খালিদ তৈমুর রানা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শাখায় যাদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট তাদেরকে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রদান করেছি। তবে প্রথম দিন হওয়ায় গ্রাহকদের উপস্থিতি কম ছিল।

উল্লেখ্য, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংক মিলিয়ে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। অনেক শাখায় ইতিমধ্যে পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন নামের ব্যানার টানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি রেজল্যুশন স্কিম চূড়ান্ত করেছে। স্কিম অনুযায়ী, যাদের হিসাবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত রয়েছে, তারা যে কোনো সময় একবারে পুরো অর্থ তুলতে পারবেন।

আর যাদের হিসাবে ২ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সি গ্রাহক এবং ক্যানসার বা কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য মানবিক বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও টাকা তুলতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একীভূত প্রক্রিয়ার আওতায় পাঁচ ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আগের সব চুক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ কারণে গ্রাহকদের নতুন কোনো চেকবই বা কাগজপত্র আপাতত নিতে হবে না। আগের ব্যাংকের নামে ছাপানো চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ, ভাউচার ও অন্যান্য ব্যাংকিং দলিলই এখন বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগে স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না। তবে বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং নতুন করে জমা দেওয়া আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. মো: জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram