ঢাকা
logo
প্রকাশিত : December 16, 2025

২৪ ব্যাংক তিন লাখ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে

অস্বাভাবিক হারে মন্দ ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ২৪টি ব্যাংকে মোট প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের বিপরীতে ঠিকভাবে নিরাপত্তা জামানতও নেয়নি।

অনেক ক্ষেত্রে যেসব জামানত রেখেছে সেসব জামানতে অতি মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে। এ জন্য ঋণগুলো খেলাপি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা সঞ্চিতিও রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে ঋণ অবলোপনের বড় সুবিধা দিলেও তারা সেই পথে হাঁটতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২৪টি ব্যাংকের সম্মিলিত সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ১০ ব্যাংকের ৫৬ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বছরের ব্যবধানে এই তালিকায় ১৪টি ব্যাংক যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।

তবে কিছু ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত প্রভিশনের বেশি সংরক্ষণ করায় দেশের ব্যাংক খাতের সার্বিক প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বরে সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঘাটতি ২৫৯ কোটি। তবে বিদেশি ব্যাংকগুলোর প্রভিশনে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৮৭ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন ব্যাংকের যে অবস্থা তাতে প্রভিশন ঘাটতি হবে।

কারণ দিন দিন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। সম্প্রতি খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে গেছে। এখানে শতভাগ প্রভিশন রাখা দরকার। কারণ একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িত। এভাবে প্রভিশন বাড়তে থাকলে ব্যাংকগুলো আরো দুর্বল হয়ে যাবে। প্রভিশন ঘাটতি কমাতে হলে আগে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে দিতে হবে, যাতে টাকাগুলো আবার ফেরত আসে।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে পরিচালন মুনাফার ০.৫ থেকে ৫ শতাংশ সাধারণ ক্যাটাগরির ঋণের বিপরীতে প্রভিশন হিসেবে রাখতে হয়। নিম্নমানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ সন্দেহজনক খেলাপি ঋণের বিপরীতে রাখতে হয়। এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের জন্য মন্দ বা লোকসান ক্যাটাগরির খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশনিং আলাদা করে রাখার বিধান রয়েছে। উচ্চ খেলাপির কারণে এই সূচকে শীর্ষে উঠে এসেছে বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ৮২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের এএমডি কামাল উদ্দিন জসিম বলেন, ‘ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণে অনিয়মের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এতে প্রভিশনেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগুলো উত্তোলন করার জন্য। এ জন্য আমরা অনেক মামলা করেছি। এ ছাড়া অন্যান্য পদক্ষেপও চলমান রয়েছে।’

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. মো: জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram