রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত ডাঃ রতন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শাহানা খাতুন (৪০) নামে একজন প্রসূতি মৃত্যুবরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শাহানা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের মোঃ ফারুক মন্ডলের স্ত্রী। সিজারিয়ান অপারেশনের পর শাহানার নবজাতক ছেলে সুস্থ রয়েছে। তার ইতোপূর্বে আরো চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা: এস. এম. মাসুদ বলেন, কোন লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তারা ক্লিনিকটির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না। তিনিও শুনেছেন ইতোপূর্বে ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর একাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে রোগী ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ফেলায় কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, শাহানাকে গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ডাঃ রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর ক্লিনিকে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। ডা. রইসুল ইসলাম (রতন)-এর তত্ত্বাবধানে এই সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালনা করা হয়। অপারেশনে সহযোগিতা করেন ডা. নিয়ামত উল্লাহ ও ডা. রাবেয়া আক্তার।
অপারেশনের পর একলামশিয়া জাতীয় জটিলতা দেখা দিলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর রাতেই তিনি মারা যান। ইতোপূর্বেও একাধিক সিজারিয়ার রোগীর মৃত্যুর ঘটনা এ ক্লিনিকে ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শাহানাকে ডাঃ রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা সদর উপজেলার কাজিবাদা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১২ হাজার টাকা চুক্তিতে শাহানাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে থেকে এনে সিজারিয়ানের জন্য ডাঃ রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে দ্রুত তাঁকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর রাতেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর আজ সকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এবং তারা রোগীর স্বজনসহ আলোচনায় বসা হয়। এক পর্যায়ে তারা ৫ লাখ টাকা দাবী করেন, তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের চার লাখ টাকা প্রদান করেন। যে কারণে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
এ বিষয়ে ডাঃ রতন ক্লিনিক ম্যানেজার (অ্যাডমিন ও ফিন্যান্স) আকলিমা আক্তার তমা বলেন, “সদর হাসপাতাল থেকে রোগীকে ক্লিনিকে আনা হয়। এখানে সিজার করার পর তাঁর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ফরিদপুরে পাঠানোর পর তাঁর মৃত্যু হয়।”
ক্লিনিকের ম্যানেজার আমজাদ হোসেন জানান, রোগী মৃত্যুর পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। তবে কত টাকায় সমাধান হলো তা তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।