

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদেশি ব্র্যান্ডের আসল মোড়ক ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর চকলেট বাজারজাতের প্রস্তুতির অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চকলেট, প্যাকেট ও উৎপাদনসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্য ইলশা এলাকায় মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন। অভিযানে বিএসটিআইয়ের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং বাঁশখালী থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি ব্র্যান্ডের আসল প্যাকেট ও মোড়ক সংগ্রহ করে সেগুলোর ভেতরে স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের চকলেট ভরে বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের বলে উপস্থাপন করে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানকালে ১৩০ কার্টনে মজুত প্রায় ৭২ হাজার পিস সফট ক্যান্ডি (Soft Candy) এবং ৫ লাখ পিস ওট বার (নাটস) উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ও আদলে তৈরি প্যাকেট, মোড়কজাতকরণ সামগ্রী, বড় আকারের কড়াই, মিশ্রণ তৈরির যন্ত্রসহ চকলেট উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আনুমানিক ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের উৎপাদিত পণ্য জব্দ এবং প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মোড়কজাতকরণ সামগ্রী ধ্বংস করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজারজাত করা শুধু ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিশুদের আকৃষ্ট করতে তৈরি এসব চকলেটের উপাদান, উৎপাদন পরিবেশ ও সংরক্ষণব্যবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, উৎপাদনস্থলে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি এসব পণ্যের কাঁচামালের উৎস, বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়ক সংগ্রহের পথ এবং বাজারজাতকরণে জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলোর গুণগত মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করা উচিত।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
