

মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে রেলওয়ে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানসহ বিভিন্ন রেলওয়ে স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। এ সময় তিনি রাজবাড়ীকে রেলের শহর হিসেবে উল্লেখ করে রেলের জমি ও স্থাপনা জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম রাজবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দান ও খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি আজাদী ময়দানের হোসনেবাগ অডিটোরিয়াম, রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন এবং প্রস্তাবিত রেলওয়ে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেল সচিব বলেন, রাজবাড়ী রেলের শহর। এখানে রেলের প্রচুর জমি ও স্থাপনা রয়েছে। রেলের জায়গায় স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে, যার কিছু প্রয়োজনীয়। প্রয়োজনীয় স্থাপনাগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট জায়গা কীভাবে জনস্বার্থে ব্যবহার করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে খেলার মাঠ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, রাজবাড়ীর রেলওয়ে খেলার মাঠ উন্নয়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সেখানে রেলওয়ের মালিকানা বজায় রেখে মাঠের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা এবং জনস্বার্থে একটি কলচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যায় কি না, সেটিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
রাজবাড়ীতে রেলওয়ে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের বিষয়ে মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১০৫ একর জমি প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে ২০২৩ সালে রাজবাড়ীতে অংশীজনদের নিয়ে সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চীনের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রেলের জমির প্রয়োজন হবে। ফলে রেলের জমি চাইলেই হুটহাট করে সব জায়গায় দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে রেল সচিব বলেন, স্টেশনটিকে উত্তরমুখী থেকে দক্ষিণমুখী করে আধুনিকায়নের একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে রাজস্ব খাতের অর্থ দিয়ে এ ধরনের বড় রিমডেলিং করা সম্ভব নয়। এজন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেলের জমিতে অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
পরিদর্শনকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
