

মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে ঢলের আংশঙ্কায় আবারও বন্যা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে রামগড় পৌর এলাকায়র নিম্নাঞ্চলের মানুষের।
বিগত ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এখনও না শুকাতেই নতুন করে বন্যার পূর্বাভাসে পৌর এলাকার নদী তীরবর্তী ফেনীরকুল এবং সদুকার্বারী পাড়া এলাকার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মাঝে। ভারী বর্ষণের ফলে এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মুহুরী নদীর পানি বেড়েছে ২১ সেন্টিমিটার। তবে পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
এছাড়া বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে ফেনী, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।
এমন পূর্বাভাসের পর থেকেই রামগড় উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠা।
তবে বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফিরছে এই এলাকার মানুষদের। বিগত বন্যায় রামগড় উপজেলা এবং পৌর এলাকার প্রায় চার হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছিলেন। এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল খাগড়াছড়ি থেকে ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রামমূখী লাখো সাধারণ মানুষকে।
পৌর ০৮নং এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক কষ্টের পর আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছি। কয়েকদিন ধরে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে আবারও ভয় লাগছে। আরেকবার বন্যা হলে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে। আরেক বাসিন্দা শহীদুল হক বলেন, গত বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছি। আবার বন্যা হলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম জানান আগামীকাল উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহবান করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী পরিবারগুলো যেন নিরাপদ আশ্রয়ে বা আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠন করা সহ ফায়ার সার্ভিসের ২ টি টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও একটি কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি ১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে রামগড় পৌরসভায় ০৯টি, রামগড় ইউনিয়নে ৪ টি ও পাতাছড়া ইউনিয়নে ৩টি। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোকে আশ্রয় গ্রহণকারী পরিবার সমূহকে সহযোগীতা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এবং পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী পরিবার সমূহের তালিকা সংগ্রহ করে পাঠানোর জন্য দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ ও রামগড় পৌরসভাকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। পাতাছড়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ কিছু রাস্তা মেরামতের জন্য পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিনি বলেন দ্রুত সেগুলো রাস্তা গুলো চলাচল উপযোগী করা যাবে। এবং ফেনী নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
