

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে শ্বশুরবাড়িতে আলী রেজা (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৭ জুলাই মঙ্গলবার ভোররাতে শহরের পৌর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত আলী রেজা শহরের বাগরাকসা এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম কালুর ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রেজাকে হত্যার পর সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, ছাত্রদল নেতা আলী রেজা প্রায় ৩ মাস আগে পরিবারের অমতে সিকিউরিটি গার্ড মো. লুৎফর রহমানের মেয়ে লুৎফুন্নাহার লোপাকে বিয়ে করেন। স্ত্রীকে নিয়ে রেজা শহরের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় তার শ্বশুরের ভাড়া বাসায় থাকতেন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে রেজাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং তার পরিবারের লোকজনকে জানায়, সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। খবর পেয়ে রেজার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান।
পরিবারের অভিযোগ, রেজাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আলী রেজার ভাই আলী হাসান ও চাচা একাব্বর আলী অভিযোগ করে বলেন, এই বিয়েতে আমরা রাজি ছিলাম না। ওই মেয়েটা আমার ভাইকে ফুঁসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই মেয়ের আরও দুই জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। আগের দিকের বাচ্চাও আছে। তারা আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে লুৎফর রহমান ও লুৎফুন্নাহারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, প্রথমে নিহতের পরিবার লাশের ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। তাই তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে তারা এখন ময়নাতদন্ত করাতে চাচ্ছেন। তাই মঙ্গলবার বিকেলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আপাতত এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
