ঢাকা
২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৫৯
logo
প্রকাশিত : জুন ২, ২০২৬

আটঘরিয়ায় সড়ক জুড়ে খড় শুকানোর হিড়িক, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা জুড়ে এখন চলছে খড় শুকানোর মহোৎসব। উপজেলার গ্রামাঞ্চলের কাঁচা-পাকা সড়ক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক পর্যন্ত প্রায় সর্বত্রই খড় শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। শুধু খড় শুকানোই নয়, অনেক স্থানে রাস্তার একাংশজুড়ে খড়ের পালা (গাদা) করে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করতেও দেখা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

বিশেষ করে দেবোত্তর থেকে একদন্ত মিনি বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে এ চিত্র সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন—দেবোত্তর, একদন্ত, চাদভা, মাজপাড়া ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন এবং আটঘরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খড় শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়লেও ডেঙ্গারগ্রাম থেকে ডেঙ্গারগ্রাম মাজার সড়কে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। সড়কের ওপর খড় ছড়িয়ে শুকানোর পাশাপাশি অনেক স্থানে বড় বড় গাদা করে খড়ের পালা তৈরি করে রাখা হয়েছে। এতে সড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্থানে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইককে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

দুই পাশ থেকে যানবাহন এলে চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। এ সড়কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড় রয়েছে। এছাড়া সড়কের একটি স্থানে একটি সংকীর্ণ ব্রিজ রয়েছে, যেখানে দুই দিক থেকে আসা যানবাহনের চলাচলে প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এলাকাবাসী চোরাস্তার মোড়ে নিজ উদ্যোগে একটি স্পিড ব্রেকার (গতিনিয়ন্ত্রক বাঁধ) নির্মাণ করেছেন।

কিন্তু সড়কের ওপর খড় শুকানো ও খড়ের গাদা করে রাখার কারণে ঝুঁকি কমছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় খড়ের গাদা, ঝুঁকিপূর্ণ মোড়, চোরাস্তার সংযোগস্থল এবং সংকীর্ণ ব্রিজটি পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখা খড়ের কারণে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকার পাবনা জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক খবর বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল খড়ের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হন। জানা যায়, সড়কের ওপর ছড়িয়ে রাখা খড়ের ওপর মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে গিয়ে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির হাড় ভেঙে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করালে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “রাস্তার ওপর খড় শুকানো ও গাদা করে রাখার কারণে প্রতিনিয়ত পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আমি নিজেই এর শিকার হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধান কাটার মৌসুম শেষে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণের জন্য খড় শুকানো হয়। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় অনেক কৃষক সড়ককেই শুকানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে বর্তমানে এর পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে অনেক এলাকায় এটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডাঙ্গারগ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “গ্রাম থেকে মাজারের রাস্তা পর্যন্ত প্রায় সর্বত্র খড় শুকানো হচ্ছে। আবার শুকানোর পর রাস্তার পাশ ও ওপরেই বড় বড় পালা করে রাখা হচ্ছে। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।”

এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “দিনের বেলায় কোনোমতে চলাচল করা গেলেও রাতে অনেক ঝুঁকি থাকে। খড়ের গাদা দূর থেকে বোঝা যায় না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার ওপর খড় ছড়িয়ে রাখা ও গাদা করে সংরক্ষণের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালক উভয়কেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষকদের দাবি, খড় সংরক্ষণ করা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গরু-মহিষের প্রধান খাদ্য হিসেবে খড়ের বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাবে তারা বাধ্য হয়েই রাস্তার অংশ ব্যবহার করছেন।

সচেতন মহল বলছে, কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নির্দিষ্ট খোলা স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে কৃষকরা সহজে খড় শুকাতে ও সংরক্ষণ করতে পারবেন, আবার সড়কও থাকবে নিরাপদ।

এলাকাবাসীর মতে, খড় শুকানো গ্রামীণ জীবনের একটি স্বাভাবিক চিত্র হলেও সড়কের ওপর খড়ের পালা তৈরি করে রাখার প্রবণতা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জনভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুমে এই সমস্যা দেখা দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে বছরের পর বছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। কৃষকের প্রয়োজন ও জনসাধারণের নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় এনে দ্রুত সমাধান করা না গেলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram