

মজিবর রহমান, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার এক মানসিক প্রতিবন্ধী দম্পতির শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলায় প্রায় এক দশক পর প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোঃ নজরুল ইসলাম সরদার (৩৫) ও মোসাঃ গোলাপী বেগম (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা দুজনেই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং তারা ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরে স্কুল ছুটির পর শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার খালা ও প্রতিবেশীরা তাকে স্কুল সংলগ্ন এলাকার পাশে দেখতে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, তাকে চানাচুর ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দক্ষিণ কবুতরখালী এলাকার সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন মৎস্য ঘেরের পাহারা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম সরদার তাকে ধর্ষণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সহযোগী আসামি গোলাপী বেগম একাধিকবার একইভাবে শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যায় এবং ঘটনার সহায়তা করে। শিশুটি আরও জানায়, পূর্বেও তাকে একইভাবে প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ওই স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট স্থানীয় দফাদার মহানন্দ বালা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে রায় দেন। রায় প্রকাশের সময় মোসাঃ গোলাপী বেগম (৩০) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পিপি শাজাহান সরদার বলেন, রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে। শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ সমাজে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং এ ধরনের অপরাধে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

