

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসায় পারুল আক্তার (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পারুল আক্তার উপজেলার নাগেরচর গ্রামের মুক্তল হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের স্বামী মুক্তল হোসেন অভিযোগ করেন, দুপুরে তাঁর স্ত্রী বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজি করার পরামর্শ দেন। বাইরে থেকে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ করে পরীক্ষা করানোর পর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “তিন তলায় নেওয়ার পর এক নার্স আমার স্ত্রীকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে মৃত্যুর কোলে ডলে পড়ে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে কিছু না জানিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সরফরাজ হোসেন খান বলেন, “রোগী হাসপাতালে আসার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভর্তি করা হয়। পরে রোগী অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করলে দায়িত্বরত নার্স একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর রোগীর মৃত্যু হয়।”
তিনি আরও জানান, প্রথমে রোগীর স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুললেও ময়নাতদন্তের প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা পরে কোনো অভিযোগ না করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান তিনি।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পুলিশকে ফোন করলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। পরে আমি নিজে গিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলি এবং বিস্তারিত শুনি। একপর্যায়ে তারা কোনো লিখিত অভিযোগ না দিয়ে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যান।”

