

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: কুমিল্লা নগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে প্রবেশের সাতটি সড়কের মধ্যে অন্তত পাঁচটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে এসব সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এতে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর হয়ে কুমিল্লা নগরীতে প্রবেশের প্রধান সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। আলেখারচর পয়েন্ট থেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বিশেষ করে দুর্গাপুর বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেহাল অবস্থা খেতাসার-ধর্মপুর সড়কের। সড়কের বড় বড় গর্ত এখন ছোট ছোট কূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত থ্রি-হুইলার, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করছে। প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।
একই চিত্র দেখা গেছে কোটবাড়ী-টমছম ব্রিজ সড়ক, ভায়া দৌলতপুর-বলারামপুর-দিদার সমিতি সড়ক, পালপাড়া-শাসনগাছা সড়ক এবং কোটবাড়ী-জাঙ্গালিয়া সড়কেও। দ্রুত এসব সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও চালকরা।
এশিয়া পরিবহণের চালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, “শাসনগাছা টার্মিনাল থেকে মহাসড়কে উঠতেই যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। দেড় কিলোমিটার রাস্তা পার হতে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। অনেক সময় যাত্রীরাও আহত হন।”
সিএনজিচালক ওসমান গনি জানান, প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০টি ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বড় গর্তে পড়ে অনেক সময় সিএনজি ও পিকআপ উল্টে যায়।
ঈদগাহ স্ট্যান্ডের মাইক্রোবাসচালক শাহিন মিয়া বলেন, “খেতাসার-ধর্মপুর সড়ক এখন ভয়াবহ দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সড়কে চলাচল করলেই আতঙ্ক কাজ করে।”
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ী বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। এছাড়া শাসনগাছা-বুড়িচং সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। আলেখারচর সড়কের সংস্কার কাজও এগিয়ে চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব সড়কের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

