

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রাধানগর ইউনিয়নের শিংগাবাদ পাথইল, তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবাম, চন্দ্র ও গুমরোহিল বিলের আধা-পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এমনকি আজ মঙ্গলবার সকালে চন্দ্রের বিলের অস্থায়ী বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৪৫০ বিঘা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাকলাইন হোসেন জানান, গত ৩ দিন ধরে বিলের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বিল কুজাইন ঘাট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেও আজ চন্দের বিলের বাঁধ ভেঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিলের সব ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, রাধানগর ইউনিয়নের শিংগাবাদ পাথইল, তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবাম, চন্দম ও গুমরোহিল বিলে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করে আসছে। এর আগে ২০২২ সালে এই সব বিলের বাঁধ ভেঙ্গে শত শত বিঘার জমির ধান পানির নীচে তলিয়ে যায়।
ঈশ্বরপুরগঞ্জ ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আকস্মিক পানিতে তলিয়ে যাওয়া আধা-পাকা ধান কাটার চেষ্ট করেছেন। কিন্তু মরার ওপর ঘাঁ হয়েছে শ্রমিক সংকট। আর নৌকার অভাবে অনেক কৃষক কাটা ধান বিলের উপর নিয়ে আসতে পারছেনা।
কৃষক আকবর হোসেন জানান, ২ বিঘা জমির ধান কোনোমতে বাড়িতে এনেছি। আর বিঘা তিনেক জমির ধান কাটার পর বিলের সাইডে পড়ে আছে। বিলে তলিয়ে যাওয়া ধান নৌকায় করে আনতে এখন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে এখন শুধু পুঁজিটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছি। ২৫ বিঘা জমিতে আবাদ করা কৃষক আলমগীর বলেন, আমার ধানগুলো এখনো পুরো পাকেনি। কিন্তু পানির ভয়ে ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধানই কাটতে হয়েছে। বাকিগুলো কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
রাধানগর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গানিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঙ্কটজনক। আমাদের বিল কুজাইন ঘাট ও চন্দের বিলে এখনো যে পরিমাণ ধান আছে, তার চারভাগের তিনভাগই কাটা বাকি।
একই এলাকার কৃষক জুয়েল রানা বলেন, ত্রিশ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। এখন সব জমির ধান বিলের মাঠেই আছে। ইতিমধ্যে আড়াই বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। শ্রমিক পাচ্ছি না। জমি থেকে ধান কেটে তুলতে। আমরা খুব অসহায় হয়ে গেছি। সরকার যায় আর আসে। কিন্ত আমাদের মতো কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা কেউ দেখে না। বিল কুজাইন ঘাটে একটি মাত্র সেতু হলেই হাজার হাজার বিঘা জমির ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারবে। কোন ঝামেলায় ছাড়া।
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, বিলের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বিল কুজাইন ঘাট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে যাতে চন্দের বিলসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষা পায়।

