

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দ্রুত রেলপথ সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও উলিপুর রেলস্টেশন থেকে রমনা রেলস্টেশন পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের কাজে ধীরগতি, অনিয়ম ও তদারকির অভাবের প্রতিবাদে রমনা বাজার রেলস্টেশনে মানববন্ধন করেছের ভুক্তভোগী যাত্রী ও এলাকাবাসী। সোমবার (৪ মে) দুপুরে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন হতে উলিপুর স্টেশন পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার শেষে উলিপুর রেলস্টেশন হতে রমনা বাজার স্টেশন পর্যন্ত সংস্কারের প্রকল্প চালু হয়। প্রায় ১০ কিলোমিটার এই রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস। চুক্তিপত্রে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শেষ হওয়ার থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন মাস এবং সর্বশেষ ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও কাজের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইনের বিভিন্ন অংশে এখনো পর্যাপ্ত ব্যালাস্ট(পাথর) না ফেলে পুরোনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্লিপারগুলোই রাখা হয়েছে।ট্র্যাক মজবুতকরণের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ট্রেন চলাচলের গতি ঘণ্টায় মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এতে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এসব অনিয়ম এবং কাজের ধীরগতির প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে উপজেলার রমনা বাজার রেলস্টশনে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক ভুক্তভোগী যাত্রী ও এলাকাবাসী। ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ হোসেন পাখী, উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফা, রমনা ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব সোহানুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, কাজের নিম্নমান এবং তদারকির অভাবেই প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়েছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছেন না। গত কয়েক বছরে এই রুটে একাধিকবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত রেললাইনে পাথর ফেলা, স্লিপার প্রতিস্থাপন ও ট্র্যাক মজবুতকরণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রমনা রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিও তোলা হয়। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
যাত্রীদের ভাষ্য, ধীরগতির ট্রেন চলাচলের কারণে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুইই বেড়েছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

