

দোকানে এক কাপ চায়ের দাম পাঁচ থেকে দশ টাকা। সেই দামেও এক কেজি আলু বিকাতে পারছেন না প্রান্তিক কৃষক। এই দাবি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের। গতকাল সংগঠনটি আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য রংপুরে মানববন্ধন করেছেন। সেই মানবন্ধনে তারা বলেছেন, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। আর উৎপাদন পর্যায়ে সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকা কেজিতে। অর্থাৎ এক কেজি আলুর দাম এক কাপ চায়ের দামের চেয়েও কম।
দেশে আলু নিয়ে এই যখন পরিস্থিতি তখন কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচিত সরকার। এবার ঘরের পাশে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের আলুর গন্তব্য হবে দক্ষিণ এশিয়া।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নেপালে আলু রপ্তানি শুরু করেছে দেশের কোম্পানিগুলো। এবার ভুটানেও আলু রপ্তানির প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) রয়েছে। ওই চুক্তির আওতাতেই রপ্তানি পণ্য হিসেবে আলু অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে আজ। ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকে পিটিএর আওতায় নতুন করে দুই দেশই পণ্য তালিকা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ভুটানের ৩৪টি পণ্য এবং বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার তালিকায় রয়েছে। এবারের বৈঠকে নতুন করে বাংলাদেশ আরও ৮০টি পণ্য যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারে। এর মধ্যে কৃষিপণ্য হিসেবে আলু যুক্ত করার বিষয়ে নির্বাচিত সরকারের আগ্রহ রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে আলু রপ্তানি চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টনের বেশি হয়েছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ। প্রচুর উৎপাদন, স্থানীয় বাজারে কম দাম এবং এশীয় বাজারে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া) চাহিদার কারণে এই রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে রপ্তানি চাহিদা বাড়লেও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়নি। সে কারণে সরকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আলু রপ্তানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে নেপালে আলু রপ্তানি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতেও আলু ভর্তি ১৬টি ট্রাকে নেপালে ৩৩৬ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বন্দর দিয়ে জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক পর্যায়ে সর্বমোট ৪৬ ট্রাকে ৯৬৬ মেট্রিক টন আলু বাংলাদেশ থেকে বাংলাবান্ধা হয়ে নেপালে রপ্তানি করা হয়েছে। একই বন্দর দিয়ে ভুটানেও পণ্যটি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

