ঢাকা
logo
প্রকাশিত : January 13, 2026

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বেড়েছে গমের চাহিদা, আমদানিতে রেকর্ডের আশা

বিশ্ববাজারে দাম কম, দেশেও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে চাহিদা বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের। এরমধ্যে সামনে নির্বাচন, তারপরে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। সবমিলিয়ে দেশে বাড়বে খাদ্যপণ্যের ব্যবসা। যার প্রস্তুতি হিসেবে এখন প্রচুর গম আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। এরপর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গম আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি কমে ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টনে নেমে আসে। এর পরের বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি আরও কমে যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৪০ লাখ ১২ হাজার টন গম। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয় কৃষ্ণসাগরে অস্থিরতা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি আরও কমে নেমে আসে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টনে।

তবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টন গম আমদানি করে বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটা কমে ৬২ লাখ ৩৫ হাজার টনে নামে। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ সময়ে) ৩৫ লাখ ৭১ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে দেশে। আমদানিকারকরা বলছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগের আমদানির রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এ অর্থবছর।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশে বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের চাহিদা। অথচ, দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের ঘরে রয়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হচ্ছে।

আমদানি বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্ববাজারে গমের নিম্নমুখী দাম। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে প্রতি টন রাশিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৩৫ ডলারে। মাঝারি প্রোটিনের আমেরিকান গমের দাম ২৬০ থেকে ২৭০ ডলার ও উচ্চমানের গমের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে।

এ দাম করোনা পরবর্তী কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ক্রমাগত কমছে গমের দাম। ২০২২ সালে গমের দাম ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশে বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের চাহিদা। অথচ, দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের ঘরে রয়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। আর যেহেতু দেশে সেভাবে গম উৎপাদন হচ্ছে না, সেহেতু বছরে উল্লেযোগ্য পরিমাণ গম আমদানি করতে হচ্ছে। এছাড়া এখন যেহেতু বিশ্ববাজারে দাম কম, সে কারণে অনেকে সুবিধা পাচ্ছে, তাই বেশি আমদানি করছে।

শফিউল আতহার আরও বলেন, গত এক বছর ধরে বিশ্ববাজার কিছুটা স্থিতিশীল। তবে মূলত বর্ধিত চাহিদার কারণেই ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়িয়েছেন।

আমদানিকারকরা বলছেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। গমের তৈরি খাদ্যপণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া কমিয়ে গমের খাবারের প্রতি ঝুঁকেছেন। দেশের অনেকেই এখন এক বেলা ভাত আর দুই বেলা রুটি খান।

মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। গমের তৈরি খাদ্যপণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া কমিয়ে গমের খাবারের প্রতি ঝুঁকেছেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়াবে এমন প্রত্যাশাও ব্যবসায়ীদের। সেটিও আমদানি বৃদ্ধির একটি কারণ বলে জানান দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যশস্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি উৎসব। এ উৎসবকেন্দ্রিক একটি ভালো বেচাকেনা হওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া রোজা ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে সবাই একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আবুল বশর চৌধুরী আরও বলেন, সারা বিশ্বে তেল ছাড়া অন্যান্য সব খাদ্যশস্যের উৎপাদন ভালো। যে কারণে বৈশ্বিক ব্যবসা চাঙ্গা হচ্ছে, খাদ্যপণ্য রপ্তানিও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক দশক আগে হাতেগোনা কয়েকটি শিল্প গ্রুপ খাদ্যপণ্য বাজারজাত করতো। চাহিদা বাড়ায় এখন বড় বড় শিল্প গ্রুপও খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় নজর দিয়েছে। এসব শিল্প গ্রুপ খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করে। বর্তমানে নুডলস, বিস্কুট, পাউরুটি, চানাচুরসহ শুকনা খাবার এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে গম দিয়ে। এসব পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবার বিশ্বের প্রায় একশ দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এছাড়া দেশে খাদ্যপণ্য তৈরির বড় বড় কারখানা, বেকারি, কনফেকশনারি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেড়েছে আটার ব্যবহার। আবার গমের উপজাত ভুসি প্রাণী ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

আবুল বশর চৌধুরী বলেন, সব বড় বড় খাতে কাঁচামাল হিসেবে গম ব্যবহৃত হচ্ছে, যা গম আমদানিতে আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. মো: জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram