

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়ার ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাখি শিকার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়া ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাখি শিকার করা হচ্ছে এমন কর্মকান্ডের সরাসরি গিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের দুই প্রান্তে লাঠির সঙ্গে কারেন্ট জাল বেঁধে টানটান করে পেতে রাখা হয়েছে। উড়ে যাওয়ার সময় পাখিগুলো ওই জালে আটকা পড়ছে। পরে শিকারিরা সেগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। পাঁকা এলাকার ধোপার বিলের কৃষক সাখওয়াত হোসেনের জমিতে কারেন্ট জাল পাতা অবস্থায় দুটি পেঁচা, একটি শালিক ও একটি বাবুই পাখি আটকে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে একটি পেঁচা ও একটি বাবুই পাখি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীবিত শালিক ও পেঁচাটির শরীরজুড়ে জাল পেঁচিয়ে থাকা অবস্থায় তা উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি রাশেদুল আলম রুপক ও স্থানীয় ইউটিউব চ্যানেল ‘চ্যানেল এ’-এর নির্বাহী পরিচালক আল আফতাব খান সুইট স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতায় জালে আটকানো পাখিগুলো উদ্ধার করেন। পরে একটি শালিক ও একটি পেঁচা নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
জমির মালিক সাখওয়াত হোসেন (৪২) বলেন, ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এসে এসব ফাঁদ দেখতে পাই। লোকচক্ষুর আড়ালে শিকারিরা জালে ধরা পাখি নিয়ে যায় এবং পরে স্থানীয়দের কাছে তা বিক্রি করে। এগুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হওয়া জরুরী বলে তিনি মনে করেন।
জমিতে কাজ করা কৃষক রনি (৩৩) বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি এ মাঠে কাজ করছেন। প্রতিদিন রাতে কেউ না কেউ এসে এরকম ফাঁদ পেতে যায়। কিছুক্ষণ আগেও অনেকগুলো পাখি শিকার করে নিয়ে গেছে তারা।
শালইপাড়া এলাকার কৃষক কালাম (৫৫) বলেন, অনেকদিন ধরেই এই অপরাধ চলছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশন(বিবিসিএফ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সবুজ বাংলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, এটি একটি মারাত্মক অপরাধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত এসব বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দি বলেন, পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।
