

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে অপহরণ করার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ নভেম্বর রাত ১১ টার পরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলার এক হোটেল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় একাধিক শিক্ষার্থীকে। এসময় দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র ও বন্দুক ব্যবহার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে ১০–১৫টি মোটরসাইকেলে করে মুখে কালো কাপড় ও হেলমেট পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত কাজলা ক্যান্টিনে প্রবেশ করে। তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছবি দেখিয়ে একজনের খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা হাতুড়ি, রড, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। পরে গুরুতর আহত আল ফারাবী ও তাহমিদ বখশীকে তুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
উদ্ধারের পরে ঘটনার শিকার ফাইন্যান্স বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বখশি বলেন, ১০ এর অধিক বাইক নিয়ে আসে দুর্বৃত্তরা। তাদের সকলের মুখে মাক্স ও হেলমেট পরা ছিল। ফারাবি ভাইকে প্রথমে ছাত্রলীগ বলে মার শুরু করে। আমরা পিছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। আমাকে রিকশায় তুলে নিয়ে অক্ট্রয় মােড়ের ভেতরে নিয়ে অন্ধকারে বসায়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে একটা কল আসে এবং বলা হয় আসলটাকে ধরে ফেলছে। আধাঘণ্টা হাঁটানোর পর আমাকে মোল্লা স্কুলের এখানে রেখে চলে যায়।
তাকে হাবিবুল হলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনা বর্ণনাকালে তিনি অন্তত আতংকিত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়।
প্রতক্ষ্যদর্শী ফাইন্যন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষার্থী সিজান বলেন, কাজলা হোটেলে খাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। তারা অনেক বেশি মারমুখী ছিল। ফাইন্যান্সের ২০২৪-২৫ সেশনের রয়ন থামাতে গেলে তার বুকে বন্দুক ধরে। তারা ভয় দেখানোর জন্য গুলাগুলি করার কথা বলে। এক পর্যায়ে এক ছোটভাইকে কোপ মারে এবং সবাই ভয় পেয়ে যায়। এই সুযোগে তারা ফারাবি কে তুলে নিয়ে চলে যায়।
আল ফারাবি মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। তবে তিনি গত ১৫ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
ফারাবিকে হাতাড়ু দিয়ে পিটিয়ে বিনোদপুর বেতার মাঠের পাশে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। এসময় মিনহাজ রহমান নামে এক শিক্ষার্থীকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা আহত করে দুর্বৃত্তরা।
মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন, “ঘটনাটি তদন্তে আমরা অভিযানে আছি। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে কাজলা গেটে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

