

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নওয়াব ফয়জুন্নেসা ছাত্রী হলের একটি কক্ষ থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে হল প্রশাসন। এ সময় নেশাজাতীয় দ্রব্য ও ঘুমের ট্যাবলেট সেবনরত অবস্থায় অন্য হলের এক ছাত্রীকে আটক করা হয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) অভিযোগের ভিত্তিতে হলের ওই কক্ষে অভিযান চালায় হল প্রশাসন।
আটক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক ছাত্রী।
হল সূত্রে জানা যায়, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের ওই কক্ষে বহিরাগত ছাত্রীর অবস্থানের খবর পেয়ে হল সংসদের জিএস সুমাইয়া খানম হল প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক সুলতানা আক্তারের নেতৃত্বে ওই কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া হলের সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা তুজ জহুরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিয়ে যান।
বেগম খালেদা জিয়া হলের সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা তুজ জহুরা বলেন, আমি খবর পাই আমাদের হলের এক ছাত্রী পারিবারিক সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে কান্নাকাটি করছেন। সেখানে গিয়ে দেখি তিনি ধূমপান করছিলেন। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় এবং আত্মহত্যার আশঙ্কায় আমরা দ্রুত তাকে ঢাকায় পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এছাড়া আমি সেখানে ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করি। সে সময় কাউকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়নি।
তবে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের জিএস সুমাইয়া খানম অভিযোগ করে বলেন, ওই কক্ষের ছাত্রী আগেও বহিরাগতদের নিয়ে হলে আসতেন। তিনি মাদক বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বলেও শুনেছি। এবার তাকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ার্ডেন ওই কক্ষে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মঞ্জুর ইলাহি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে তাদের হলে থাকছেন না। ফয়জুন্নেসা হলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, হল প্রশাসনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও কক্ষের বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক সুলতানা আক্তারকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী আবাসিক শিক্ষক রাশেদা খাতুন। এছাড়া সদস্য করা হয়েছে হল সুপারিনটেনডেন্ট নাদিয়া সুলতানা ও শাহনাজ আক্তারকে। কমিটির সদস্য-সচিব হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইয়ার হোসেন।

