ঢাকা
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:২৮
logo
প্রকাশিত : আগস্ট ৩১, ২০২৫

চিলমারীতে আশ্রয়ণের ঘর হস্তান্তরের আগেই মালামাল লুটের অভিযোগ

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারিভাবে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তরের আগেই ৫ বাসার ৫টি ব্যারাকের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাক ৫টির উপরের ঢেউটিন, দরজা, জানালা ও লোহার এ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন মালামাল খুলে লুটপাট করে নিয়েছেন তারা। অভিযুক্ত ওই প্রভাবশালীরা হলেন, সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা, মাইদুল, নাজমুল, রাশেদুলসহ বেশকয়েকজন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান প্রশাসন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন অষ্টমীর চর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খোদ্দবাসপাতার এলাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অধীনে প্রায় ৭৪৩ মে.টন গমের বরাদ্দে মাটি ভরাটের কাজ করা হয় দীঘলকান্দি আশ্রয়ণের। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পে প্রতি ৫ পরিবারের জন্য একটি করে ব্যারাক হিসাবে ১০০টি পরিবারের জন্য ২০টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। ব্যারাকগুলি নির্মাণের ৪বছর পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কাণে অদ্যাবধি সেগুলি সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়নি।

এদিকে গত বছর আশ্রয়ণটি নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি সঠিক কোন পদক্ষেপ, ফলে সেখানে শুরু হয় লুটপাটের রাজত্ব।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা, মাইদুল, নাজমুল, রাশেদুলসহ বেশ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা আছে জানিয়ে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫টি ব্যারাকের উপরের ঢেউটিন, দরজা, জানালা, লোহার এ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন মালামাল খুলে সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ বাধা দিলেই প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে হুমকি বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে শনিবার আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৫ পরিবারের জন্য নির্মিত ৫টি ব্যারাকের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসময় নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া ফজল মিয়া জানান, আমি মাছ মেরে সংসার চালাই, এই(দীঘলকান্দি) আশ্রয়ণের ঘরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছি আর আমি যে ব্যারাকে আছি সেটিও নদী থেকে বেশ দুরে। কিন্তু কোন কিছু না বলেই স্থানীয় মাইদুল, শাহিনসহ কয়েকজন ব্যারাকের টিন খুলে নিয়ে যায়। এসময় আমি ঘরে খাইতে বসেছিলাম কিন্তু তারা আমাকে খাওয়ারও সময় দেয় নাই। জোর করে ইউএনও স্যারের কথা বলে চালের টিন, দরজা জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল খুলে নিয়ে যায় তারা। আমি এখন খোলা আকাশের নিচে বউ ছাওয়া নিয়ে কষ্টে আছি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এসএম সেলিম বলেন, মাইদুল, নাজমুল, রাশেদুল ও সাবেক মেম্বার মোস্তাফাসহ বেশ কয়েকজন এই লুটপাটের সাথে জড়িত। ইউএনও স্যার তাদের কিভাবে ব্যারাকের মালামাল খুলতে অনুমতি দেয় এটি আমার বুঝে আসছে না। লুটের সাথে জড়িতরা ইতোমধ্যে অফিসের খরচের কথা বলে আশ্রিতদের কাছে টাকাও তুলেছে। তিনি আরো জানান, আমার কাছে কিছু উদ্ধারকৃত মালামাল জমা আছে আর লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য আমি থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু সেটি আর আগাতে দেননি ইউএনও স্যার।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, আমি ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজনকে কারা বসবাস করছে তাদের লিস্ট করতে বলেছি, কাউকে আশ্রয়ণ্রর ঘর ভাঙ্গতে বলিনি, যদি কেউ করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram