ঢাকা
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:১৪
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০২৬

দায়িত্বের ধোঁয়াশায় ডুবে আছে ত্রিশালের সড়ক

মমিনুল ইসলাম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ত্রিশালের ব্যস্ততম সড়কের বুকে যেন এক অনাদৃত ক্ষত। মাত্র ৫০ মিটার পথ, অথচ দুর্ভোগের সীমা নেই। ময়মনসিংহের ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের এই ছোট্ট অংশটি আজ দুই দপ্তরের দায়িত্বহীনতার নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ আর যানবাহন চালক এ অংশ পার হতে গিয়ে পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে পৌরশহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ত্রিশালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। এর সাড়ে ছয় কিলোমিটার দেখভাল করে এলজিইডি, আর বাকি দেড় কিলোমিটার ত্রিশাল পৌরসভার আওতায়। কিন্তু এ দুই কর্তৃপক্ষের সীমারেখার মাঝখানে পড়ে থাকা চিকনা মোড় সংলগ্ন প্রায় ৫০ মিটার সড়ক যেন কারও নয়, অথবা সবাই এড়িয়ে যেতে চায়। প্রশ্ন উঠছে, মাত্র ৫০ মিটার রাস্তার দায় নিতে যখন দুই দপ্তরই অনিশ্চয়তায়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায় নেবে কে? উন্নয়নের অগ্রযাত্রার গল্পের ভেতর এ ছোট্ট অংশটি কেন থেকে যাবে অবহেলার প্রতীক হয়ে?

সরেজমিনে দেখা যায়, খানাখন্দে ভরা এই অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে হাঁটুসমান পানি। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া দায়। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা গর্তগুলো প্রতিটি পদক্ষেপে তৈরি করছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। পথচারীরা পা ফেলছেন শঙ্কা নিয়ে, আর যানবাহন চালকরা চালাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

অটোরিকশা চালক বাদল মিয়ার বলেন, প্রতিদিন এ রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে মনে হয় আজই বুঝি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে। গাড়ির ক্ষতি তো হচ্ছেই, যাত্রীও তুলতে ভয় লাগে।

সিএনজি চালক মনির হোসেন বলেন, বর্ষা এলে এই রাস্তা আর রাস্তা থাকে না, হয়ে যায় ছোটখাটো পুকুর। তখন বাধ্য হয়ে ঘুরপথে যেতে হয়। সময়ও নষ্ট হয়, খরচও বাড়ে।

ট্রাক চালক রুবেল মিয়া বলেন, ভারী যানবাহনের চালকরাও কম বিপদে নেই। এ অংশে ঢুকলেই গাড়ি দুলতে থাকে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি তাদের অংশের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলন করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি অসমাপ্ত রেখেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, পৌরসভার দাবি এই অংশ তাদের আওতার বাইরে। ফলে দায় এড়ানোর এই টানাপোড়েনে পড়ে বছরের পর বছর অবহেলিত হয়ে আছে সড়কটি।

পৌর প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার দেবনাথ বলেন, এ অংশটি মূলত ইউনিয়ন পরিষদের, যা এলজিইডি বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে অর্থ ও অনুমোদন পেলে পুরো রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করবেন তারা। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সড়কে কোনো কাজ হয়নি এবং সীমানা সম্পর্কেও তার স্পষ্ট ধারণা নেই। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীও স্বীকার করেন, এই অংশটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে পড়ে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে তিনি আশ্বাস দেন, রাস্তা যারই হোক, সংস্কার তো করতেই হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram