ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 13, 2026

বিরল রোগে আক্রান্ত ৯ মাসের সাজিদ, জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন ৬০ লাখ টাকা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: বয়স মাত্র ৯ মাস। যে বয়সে হাসি-খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই জটিল লিভার রোগে আক্রান্ত শিশু সাজিদ। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। পরিবারের দাবি, তার চোখ ও শরীর নীলচে হয়ে গেছে। জন্মের মাত্র ১৫ দিন পর দেখা দেয় জন্ডিস। এরপর এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন বাবা-মা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া নামে বিরল রোগ।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সাজিদের লিভার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবার। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল বিক্রি করেও এখন অসহায় বাবা-মা। তাই একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা চাইছেন তাঁরা।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসাইন ও হিমু আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান সাজিদ। জন্মের ১৫ দিন পরই তার শরীরে জন্ডিস দেখা দেয়। প্রথমে তাকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রায় আড়াই মাস ওষুধ খাওয়ানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লিভারের বায়োপসির পর বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া রোগ শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। তাঁদের দাবি, রোগটি পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সাজিদের বাবা শাহাদাত হোসাইন জানান, চিকিৎসকেরা তাঁর ছেলের লিভার প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ জন্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। একমাত্র সন্তানকে সুস্থ করে তোলার আশায় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সন্তানের চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন শাহাদাত হোসাইন।

সাজিদের মা হিমু আক্তার জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজেদের গহনা ও জমিজমা বিক্রি করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তাঁরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাজিদকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না তাঁরা।

হিমু আক্তার বলেন, অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় কাটছে তাঁদের। তাঁর দাবি, সাজিদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই কান্না করে। সন্তানের কষ্ট দেখে তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তানকে সুস্থ করে তোলার আকুতি জানিয়ে সরকার ও দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সাজিদের এমন অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন পরিবারের অন্য সদস্যরাও। নাতির কষ্ট দেখে কাঁদেন দাদিও। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না তাঁরা। নাতির জীবন বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

এদিকে, সাজিদের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের ভাষ্য, দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই শিশুটির চিকিৎসায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সন্তানকে ঘিরে শাহাদাত হোসাইন ও হিমু আক্তারের ছিল অনেক স্বপ্ন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সাজিদকে বড় করে হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন বড় বাধা সন্তানের জটিল অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিপুল ব্যয়। নিজেদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেও এখন দিশেহারা পরিবারটি। ছোট্ট সাজিদের জীবন বাঁচাতে এখন সবার সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram