

দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাস্টার বোমা যুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার দেশটি এই উৎক্ষেপণের কথা জানিয়েছে।
সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা উল্লেখ করেছে। এই প্রতিবেদনে আসলে সেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাই বলা হয়েছে, যা রবিবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে শনাক্ত করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।
কেসিএনএর তোলা ছবিতে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং তার কিশোরী কন্যা কালো চামড়ার জ্যাকেট পরে আছেন। তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেখছেন। কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম ক্লাস্টার বোমা এবং ফ্র্যাগমেন্টেশন মাইনযুক্ত পাঁচটি উন্নত মানের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হুয়াসং-১১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণের তত্ত্বাবধান করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
খবরে বলা হয়েছে, উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি দ্বীপের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।এ নিয়ে কিম বলেন, ‘ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী ও আরো আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে এই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
একই মাসে আগের উৎক্ষেপণে উত্তর কোরিয়া ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডসহ হোয়াসং-১১ ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। তাদের মতে, এটি ‘৬.৫-৭ হেক্টর (১৬ থেকে ১৭.২ একর) এলাকাজুড়ে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে ছাই করে দিতে পারে।
’উত্তর কোরিয়া আগেও ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড পরীক্ষা করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ হয়তো উত্তর কোরিয়াকে তাদের কাছে ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র আছে তা প্রদর্শন করতে এবং আরো উন্নত যুদ্ধাস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে উৎসাহিত করেছে।
চলমান যুদ্ধে ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে, যেখানে ইসরায়েল ইরানকে দেশটির দুর্বল বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের জন্য অভিযুক্ত করেছে। এই ওয়ারহেডগুলো উচ্চ উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়ে কয়েক ডজন ছোট ছোট বোমা একটি বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে দেয়, যা প্রতিহত করা কঠিন।
১২০টির বেশি দেশ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছে।
তবে উত্তর কোরিয়া, ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে নেই। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি বাড়াতে জোর দিচ্ছে। তারা এখন আরো উন্নত অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে।
এর মধ্যে আছে একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে এমন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং সাবমেরিন থেকে ছোড়া যায় এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এসব অস্ত্র থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করা তাদের জন্য সহজ হতে পারে। ট্রাম্প বারবার কিমের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে চান বলে জানিয়েছেন। কিমও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তবে তিনি বলেছেন, আগে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের শর্ত থেকে সরে আসতে হবে।
মে মাসে শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল। কারণ ট্রাম্প ও শির বৈঠক থেকে পিয়ংইয়ংয়ের জন্য নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

