ঢাকা
২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৫৮
logo
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২১, ২০২৬

বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণে তিন দিন সময় দিল ইরান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার শুরু

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার।

গতকাল সোমবার জাতীয় পুলিশপ্রধান আহমাদ-রেজা রাদান বলেন, ‘বিভ্রান্ত হয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তি পাবেন।’

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাদান বলেন, ‘যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছিলেন, তারা বিভ্রান্ত ব্যক্তি, শত্রু সেনা নয়। ইসলামিক রিপাবলিকের ব্যবস্থায় তাদের সঙ্গে অবশ্যই নমনীয় আচরণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের জন্য সর্বোচ্চ তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। যদি আমরা অকারণে কাউকে দয়া দেখাই যিনি দয়া পাওয়ার যোগ্য নন, তবে তা হবে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।’

বিক্ষোভের পর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তিন নেতা শাস্তির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা জানান, ‘খুনি ও সন্ত্রাসী উসকানিদাতাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যাঁরা বিদেশি শক্তির মাধ্যমে ‘প্ররোচিত’ হয়ে বিক্ষোভে নেমেছিলেন, তাঁদের প্রতি ‘ইসলামি সহানুভূতি’ দেখানো হতে পারে।

ইরান সরকার এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রয়েছে বলে শুরু থেকেই বলে আসছে। গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভে ‘কয়েক হাজার’ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকার দাবি করছে, এই মৃত্যুর জন্য বিদেশি মদদপুষ্ট এজেন্টরা দায়ী, সরকারি বাহিনী নয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান থেকে এক ‘সন্ত্রাসী দলের’ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ইরানে ঢুকেছিল। এ ছাড়া কেরমান, ইসফাহানসহ বিভিন্ন শহর থেকেও ‘দাঙ্গাবাজ নেতাদের’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যারা বিক্ষোভকে সমর্থন করেছেন, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিক্ষোভের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রসিকিউটর জেনারেলের প্রধান মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেছেন, আইন অনুযায়ী যাঁরা বিক্ষোভকে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের থেকেই দাঙ্গার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

ইতিমধ্যেই এক বড় ব্যবসায়ীর সব সম্পদ সরকার জব্দ করেছে। এর মধ্যে মধ্যে নামী ক্যাফে ও খাদ্যপণ্য তৈরির ব্র্যান্ড রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক জনপ্রিয় ফুটবলার ভোরিয়া ঘাফৌরির ক্যাফেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিক্ষোভের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। জবাবে ইরানের ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন ও মূর্খামি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার অবমাননা করার অর্থ রেড লাইন বা চরম সীমা অতিক্রম করা, যার ফলাফল হবে ভয়াবহ।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram