ঢাকা
৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১১:২৩
logo
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২২, ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই গ্রিনল্যান্ড দখলের হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন। বুধবার তিনি বলছেন, শক্তি প্রয়োগের পথও বাতিল করা হয়েছে এবং ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ডকে ঘিরে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল তা অবসানের জন্য একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অবস্থানকালে ট্রাম্প আপাতত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সেই আগ্রাসী বক্তব্য থেকে সরে আসেন, যা ন্যাটো জোটকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং নতুন বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। গত সপ্তাহে তিনি আটটি ইউরোপীয় দেশের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানির ওপর ক্রমবর্ধমান শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে সুইস আল্পসের রিসোর্টে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “পশ্চিমা আর্কটিক মিত্ররা ৫৭ হাজার জনসংখ্যার কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। এই চুক্তি একদিকে যেমন তার ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের চাহিদা পূরণ করবে, অন্যদিকে আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বিস্তারও ঠেকাবে।”

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা এমন একটি চুক্তি, যেটাতে সবাই খুব খুশি। এটা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।

একেবারে চূড়ান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও খনিজের ক্ষেত্রে সবাইকে খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে।’
পরে রুটে জানান, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে থাকবে কি না—এই প্রশ্নটি ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনায় আর ওঠেনি। ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’ অনুষ্ঠানে রুটে বলেন, ‘আজ রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথোপকথনে এই বিষয়টি আর আসেনি।

’তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) মূলত মনোযোগ দিচ্ছেন এই বিশাল আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে; যেখানে বর্তমানে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। চীন ও রাশিয়া ক্রমেই সক্রিয় হচ্ছে এবং আমরা কীভাবে সেটিকে সুরক্ষিত রাখতে পারি।’

এর আগে দিনের শুরুতে ট্রাম্প এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কড়া ভাষায় বক্তব্য দেন এবং এমন সব হুমকি দেন, যা ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন দেশগুলোর জন্য আরো অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে; বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র দেশের কাছ থেকে ভূখণ্ড দখলের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেন, প্রেসিডেন্টের এই হঠাৎ সুর পরিবর্তন পুরো বিরোধের সমাধান না করলেও মিত্রদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত প্রশমিত করতে সাহায্য করেছে, যাতে তারা গোপনে মতপার্থক্যগুলো মেটানোর চেষ্টা করতে পারে।

তবে এখনো স্পষ্ট নয়, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দা ও নেতারা যেটিকে ‘বিক্রির জন্য নয়’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন; সেই ভূখণ্ডের ওপর ট্রাম্পের সরাসরি ‘মালিকানা’ দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব।

ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন, ‘ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এগোবে, যার লক্ষ্য হবে রাশিয়া ও চীন যেন কখনোই গ্রিনল্যান্ডে অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে পাড়ি জমাতে না পারে।’

এই আলোচনার কোনো তারিখ বা স্থান এখনো জানানো হয়নি। ট্রাম্প জানান, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পরবর্তী আলোচনায় অংশ নিতে দায়িত্ব দিয়েছেন।

এদিকে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে কী ঘটে, তা আমাদের কাছে একেবারেই কোনো গুরুত্ব বহন করে না।’

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram