

বৃটেনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপিদের একাংশের মধ্যে জল্পনা চলছে যে, বাজেট ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাকে সরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। তবে এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী লড়াই করবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজেট ঘোষণা করা হবে। স্টারমারের অনুগতরা আশঙ্কা করছেন, কিছু এমপি তাকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন।
এ ঘটনা সরকারের ভেতর আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, তিনি (স্টারমার) লড়বেন। তিনি ২০২১ সালের হার্টলপুল উপনির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি কোনো হার্টলপুল মুহূর্ত নয়। তিনি জীবিত থাকা দু’জন লেবার নেতার একজন, যিনি সাধারণ নির্বাচনে জিতেছেন। মাত্র ১৭ মাস পর তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো পাগলামি।
লেবার এমপিদের মধ্যে যে নামগুলো সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে, তার মধ্যে আছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তারা স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মন্ত্রিসভার সদস্য। এছাড়া এনার্জি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেইগের নামও শোনা যাচ্ছে। লেবারের অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করছেন, আগামী মে মাসে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনের পর সরকার বড় ধাক্কা খেতে পারে।
কিন্তু দলের একাংশের মত, এতদিন অপেক্ষা করা যাবে না। বাজেটের পরই নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে।
এক সিনিয়র লেবার এমপি বলেন, লোকাল ইলেকশনের জন্য অপেক্ষা করা মানে আমার কর্মীদের আগুনে পাঠানো। আমি সব কাউন্সিলর হারাতে চাই না। অন্য এক সূত্র বলেন, বাজেটের পর স্টারমারকে সরানোর তালিকা প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে। যদি ওয়েস (স্ট্রিটিং) সাহস দেখান, তবে বড়দিনের আগেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষ থেকে এক মুখপাত্র বলেন, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি যোগ করেন, ওয়েসের পুরো মনোযোগ এনএইচএস সংস্কারের দিকে- অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমানো, ২৫০০ নতুন জিপি নিয়োগ এবং যে এনএইচএস তার জীবন বাঁচিয়েছিল সেটিকে পুনর্গঠন করা।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক সরকারি সূত্র অভিযোগ করেন, সরকার এখন সম্পূর্ণ ‘বাঙ্কার মুডে’ চলে গেছে। নিজেদের অনুগত মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও অযথা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সূত্রটি আরও বলেন, কিয়েরের টিম নিজের লোকদের বিরুদ্ধেই তথ্য ফাঁস করে। তারা এটা অ্যানজেলা, লিসা, লুসির ক্ষেত্রেও করেছে। এখন ওয়েসের পালা। প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকরা এমপিদের সতর্ক করে বলছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন লেবার পার্টিকে সেই বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেবে, যেভাবে টোরি পার্টির শেষ সময়গুলোতে ঘটেছিল। এতে এমন এক নেতা আসবেন, যার জনগণের কাছ থেকে নিজস্ব ম্যান্ডেট থাকবে না। তারা আরও যুক্তি দিচ্ছেন, এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারের ভেতরই কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিকে অসহনীয় বলে বর্ণনা করছেন। এক মন্ত্রী বলেন, অবস্থা ভয়াবহ। জনগণ ওকে (স্টারমারকে) ঘৃণা করে। (জেরেমি) করবিনের সময়ের চেয়েও খারাপ অবস্থা এখন। মে পর্যন্ত টিকে থাকা সম্ভব বলে মনে হয় না। বেশ কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, স্যার কিয়ের স্টারমার আধুনিক বৃটিশ ইতিহাসে অন্যতম অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। লেবার পার্টিও গত কয়েক মাসে ভোটারদের এক-পঞ্চমাংশের বেশি সমর্থন আদায় করতে পারেনি।
স্টারমারের এক অনুগত মন্ত্রীর ভাষায়, অনেকে মনে করছেন এখনকার লেবার সরকার ও আদর্শ সরকারের মধ্যে একটা বেছে নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিকল্পটা আমাদের আর পারফেকশন নয়, আমাদের আর রিফর্ম ইউকের মধ্যে।
রিফর্ম ইউকের উত্থান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডাউনিং স্ট্রিটে বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। স্টারমার নিজে রিফর্ম নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘প্রজন্ম নির্ধারণী যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ফারাজকে হারানোর জন্য তার এখনো শক্তি ও কৌশল আছে। কিন্তু তার দলের অনেক সহকর্মী আর সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। এক লেবার এমপি বলেন, আমরা টোরিদের মতো নই যে, এক পার্লামেন্টে একাধিকবার নেতা বদলাব।

