

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: সৌদি আরবের আল খারিজ এলাকায় ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৩৫) নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) দেশটির আল খারিজ শহরের একটি শ্রমিক ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মোঃ বাচ্চু মিয়া জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইস উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার ছোট ভাই মোফাস্সেল ও সৌদি প্রবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। নিহত মোঃ বাচ্চু মিয়ার দুই কন্যা সন্তান ও এক পুত্র রয়েছে, তন্মধ্যে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল খারিজ শহরের ‘আল তোয়াইক বলদিয়া’ কোম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন বাচ্চু। ইফতারের প্রস্তুতি চলাকালে হঠাৎ মিসাইল বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার বলেন, ‘বাচ্চু মিয়া সৌদি আরব শাখা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন এবং দেশে থাকাকালেও দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী নিহতে পরিবারের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিবারের সাথে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। এ সময় তিনি প্রশাসনের সাথে কথা বলে সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিন্তের আশ্বাস দেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দিন নিহতের বাড়িতে আসার কথা রয়েছে।
বাচ্চু মিয়া দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রবাসে থাকলেও এখন পর্যন্ত একটা ঘরও করতে পারে নাই। তার তিন সন্তান, এক ছেলে দুই মেয়ে, একজন সন্তান প্রতিবন্ধী, পরিবার বেহাল অবস্থায় আছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা নিহত বাচ্চুর লাশ সরকারি ব্যবস্হাপনায় দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ মারলিজ নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এসময় তিনি নগদ ১৫ হাজার টাকার অনুদান পরিবারের হাতে তুলে দেন। তিনি বলেন, পরিবারটির আর্থসামাজিক অবস্থা খুবই নাজুক। আমরা সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারিভাবে যে ধরনের সহযোগিতা আসবে, তা যেন এই পরিবারটি পায় তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন সব সময় তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবে।

