

২০২৬ সালের ৪ঠা মার্চ, রমজানের এই উত্তপ্ত দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যস্ততা যেন এক নিদারুণ প্রহসন। বাজারের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন ষাটোর্ধ্ব একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার শীর্ণ থলিতে খুব সামান্য কিছু সওদা—এক কেজি চাল, কিছু ডাল আর এক পোয়া পেঁয়াজ। এ বছর পেঁয়াজের দাম আশ্চর্যজনকভাবে হাতের নাগালের মধ্যে (প্রতি কেজি মাত্র ৫০ টাকা), যা গত কয়েক দশকের রমজানে বিরল। কিন্তু সেই শিক্ষক যখন ফলের সারির দিকে এগোলেন, তার হাত কাঁপতে শুরু করল। এক হালি লেবুর গায়ে লেবেল লাগানো—১২০ টাকা। তিনি পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করলেন, আবার তা ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার করাটা আজ তার মতো লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্তের কাছে এক বিলাসিতার নাম।
বাজারের এই বৈপরীত্য—একদিকে পেঁয়াজের প্রাচুর্য আর অন্যদিকে লেবুর দুষ্প্রাপ্যতা—আসলে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনীতির এক নিষ্ঠুর প্রতিচ্ছবি। একদিকে কিছু পণ্যে সাময়িক স্বস্তি, অন্যদিকে কিছু নিত্যপণ্যে আগুনের শিখা। মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই যে বিশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা, এর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? এটি কি কেবল জোগান ও চাহিদার প্রাকৃতিক খেলা, নাকি সিন্ডিকেট নামক এক অদৃশ্য দানবের রক্তচোষা উল্লাস? ইফতারের টেবিলে যখন এক গ্লাস সাধারণ পানি হাতে মানুষ বসে, তখন ড্রয়িংরুমের টেলিভিশনে ভেসে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ। সেখানে মিসাইলের আলোয় রাতের আকাশ দিনের মতো ফর্সা হয়ে উঠছে। ইরান, ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী লড়াই আজ শুধু রাজনৈতিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে প্রতিটি মানুষের জায়নামাজে। আল্লাহর বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বারুদ আর রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে এই পবিত্র মাস। এই জাঁকজমকপূর্ণ ইবাদত আর লেন্সের আড়ালের হাহাকার—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আমরা কি তবে মেকি এক ধার্মিকতার চর্চা করছি?
যখন পেট কাটাই ইবাদত - ২০২৬ সালের রমজান আমাদের শিখিয়েছে যে, বাজার কেবল সংখ্যা দিয়ে চলে না, চলে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক নিষ্ঠুরতায়। সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) মার্চ ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ডাটা অনুযায়ী, এ বছর চাল এবং পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাজারে এক ধরণের কৃত্রিম স্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের দাম প্রায় ৬০% হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু এই স্বস্তি যেন এক বিষাক্ত মরীচিকা। ঠিক একই সময়ে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ পণ্য যেমন লেবু ও আদা-র দাম বেড়েছে ৩০০% পর্যন্ত।
এই অসমতা আমাদের সমাজকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। উচ্চবিত্তরা যখন সুপারশপে ট্রলি ভরে বিলাসী ইফতার সামগ্রী কিনছেন, তখন নিম্নবিত্তের থলিতে পেঁয়াজ থাকলেও শরবতের অভাব মিটছে না। আমরা কি লেন্সের সামনে হাসার জন্য এত আয়োজন করি নাকি জীবনের দীর্ঘ পথ চলার জন্য? জাঁকজমক কি তবে কেবলই একটা ফানুস? রমজানে যখন ইবাদতের নামে আমরা উপবাস করি, তখন আমাদেরই একদল ভাই গুদামে পণ্য লুকিয়ে মানুষের পেটে লাথি মারে। এই যে ‘ব্যবসায়িক জিহাদ’ এর পরিবর্তে ‘ব্যবসায়িক জুলুম’—এটা কি মুসলমান জাতির জন্য এক চরম লজ্জার বিষয় নয়? বাজার যখন সিন্ডিকেটের দখলে থাকে, তখন সাধারণের হাহাকার বাড়ে। মার্চ ২০২৬-এর প্রথম ১৫ দিনের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান কোথাও কোথাও ৮০% পর্যন্ত। এটি কেবল অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি একটি নৈতিক বিপর্যয়।
বারুদের গন্ধে ভারী ইবাদতের আকাশ - ২০২৬ সালের এই রমজান মাসটি ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত বসন্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন সম্মুখ সমরে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার রণতরী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। সিয়াম সাধনার এই মাসে যখন পুরো বিশ্বে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ার কথা, তখন বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে জেরুজালেম থেকে তেহরানের বাতাস। আল্লাহর বিধান স্পষ্ট—রমজান হলো শান্তির মাস, সংযমের মাস। কিন্তু ক্ষমতা ও ভূ-রাজনীতির নেশা এই পবিত্র বিধানকে পদাঘাত করছে।
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, অনেক মুসলিম প্রধান দেশ এই মহাযুদ্ধের দাবানলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। তারা রোজা রাখছে, সেহরি করছে, কিন্তু তাদের অর্থায়ন বা রাজনৈতিক সমর্থনে প্রাণ যাচ্ছে হাজারো নিরীহ মানুষের। জাতির বিবেকের কাছে আজ একটি বড় প্রশ্ন—যাদের হাত মানুষের রক্তে রঞ্জিত, যারা ক্ষমতার লোভে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করতে পারছে না, তাদের এই উপবাস কি কেবলই অনাহার নয়? যুদ্ধের দামামায় যখন আজান ঢাকা পড়ে যায়, তখন সেই ইবাদত কি স্রষ্টার আরশ পর্যন্ত পৌঁছানোর যোগ্যতা রাখে? ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্য সংকট কেবল সীমানা দখলের লড়াই নয়, এটি আধ্যাত্মিক দেউলিয়া হওয়ার এক নগ্ন রূপ। আল্লাহর বিধান অমান্য করে যারা ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের রোজা কি কবুল হবে? এই প্রশ্ন আজ বিশ্ববাসীর।
মাহাত্ম্য ফিরিয়ে আনার আধ্যাত্মিক রোডম্যাপ - রমজানের অর্ধেক সময় আমরা পার করেছি বাজারের হিসাব মিলাতে আর যুদ্ধের খবর দেখতে দেখতে। কিন্তু সামনের ১৫ দিন আমাদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। এই সময়টুকু কেবল ঈদের কেনাকাটা আর জাঁকজমকের জন্য নয়। এই ১৫ দিনে বাঙালি জাতিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল হুজুগে চলে না, তারা ইনসাফ বোঝে।আমাদের যাপিত জীবনে বিলাসিতা ও লোকদেখানোর সংস্কৃতি পরিহার করে প্রকৃত সংযম চর্চা করা এখন সময়ের দাবি। যেখানে লক্ষ টাকার জাঁকজমকপূর্ণ ফটোশুট করেও মাস না ঘুরতেই বিচ্ছেদের বিষাদ হানা দেয়, সেখানে রমজানের শেষ ১৫ দিন হোক আত্মশুদ্ধির এবং সব ধরনের প্রদর্শনীমূলক ইফতার পার্টি বর্জনের উপযুক্ত সময়। একইসঙ্গে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কেবল অভিযোগ না করে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন; সাময়িকভাবে অতি-মূল্যবান পণ্য কেনা বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে জনগণ এখন সচেতন। সর্বোপরি, ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহর উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিবাদ ভুলে ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের নির্যাতিত মানুষের অধিকার ও শান্তির জন্য একটি একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সম্মিলিত দোয়ার মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করা।এই রমজানকে মাহাত্ম্যপূর্ণ করতে হলে আমাদের ‘ডিজিটাল ওঝা’ বা ভাইরাল হওয়ার নেশা ছাড়তে হবে। আমরা কি কোনো ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিয়ে তার ছবি তুলে ফেসবুকে ভিউ কামাবো, নাকি নিঃশব্দে তার মুখে অন্ন তুলে দেব? প্রকৃত মাহাত্ম্য রয়েছে গোপনীয়তায়, প্রদর্শনীতে নয়।
একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হলে কেবল জিডিপি (GDP) বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি নাগরিকের চারিত্রিক ও নৈতিক উন্নয়ন। ২০২৬ সালের এই পবিত্র রমজান আমাদের এমন তিনটি মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে যা বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত: প্রথমত, রোজার মাধ্যমে আমরা যেভাবে নিজ কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করি, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে—প্রশাসনিক ফাইল থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত—আল্লাহর ভীতি ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার সেই একই চর্চা নিশ্চিত করতে পারলে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। দ্বিতীয়ত, চলতি বছর লেবুর বাজারের মতো যে অস্থিরতা আমরা দেখেছি, তা আমাদের ভঙ্গুর সংরক্ষণ ব্যবস্থারই প্রতিফলন; তাই দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং কোল্ড স্টোরেজ ও সাপ্লাই চেইনের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। পরিশেষে, রমজানের সহমর্মিতার শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মডেলে যদি ‘যাকাত’ ও ‘সাদাকাহ’র একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তবে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং কোনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে আর ইফতারের উচ্ছিষ্টের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। মূলত যেকোনো মহৎ পরিকল্পনার চেয়ে তার সফল বাস্তবায়নই (Execution) মুখ্য, আর সেই বাস্তবায়নের মূল শক্তি হলো ব্যক্তিগত সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।
জনগণের পাওনা এবং সরকারের দায়বদ্ধতা - উন্নয়ন কোনো আকাশ থেকে পড়া বস্তু নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার ফল। শুধু বড় বড় প্রজেক্ট আর মেগা স্ট্রাকচার দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় যদি না সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়। ২০২৬ সালের রমজানে মানুষ যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে—বাজারে পণ্যের দামের অস্থিতিশীলতা আর আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি—এসবের জন্য একটি কঠোর জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
সরকারকে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান করতে হবে যেখানে কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না, থাকবে মানুষের সরাসরি সুফল পাওয়ার নিশ্চয়তা। এই প্ল্যানে যুক্ত করতে হবে—১. সরাসরি কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ২. অসাধু সিন্ডিকেটের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান, এবং ৩. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করা। এই রমজান আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, মানুষের পেটে ক্ষুধা থাকলে আধুনিক অবকাঠামোর কোনো মূল্য থাকে না। প্ল্যানিং আর দীর্ঘমেয়াদী কাজ তখনই সফল হয় যখন সেখানে সাধারণ মানুষের কান্নার বদলে হাসির জায়গা থাকে।
পবিত্র রমজান কেবল আত্মশুদ্ধির মাস নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সামগ্রিক জীবনদর্শনের প্রশিক্ষণ। এই মাসে প্রকৃত মুমিন হতে হলে প্রথমেই ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির মতো হারাম কাজ থেকে তওবা করতে হবে; পাশাপাশি ইফতারের প্লেটে খাবার অপচয় রোধ করে সেই উচ্ছিষ্টের ওপর নির্ভরশীল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি মানবিক হওয়া জরুরি। ইবাদতকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লোকদেখানো প্রদর্শনী থেকে মুক্ত রেখে স্রষ্টার সাথে একান্ত সম্পর্ক স্থাপন এবং একই সাথে নিজের হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ প্রতিবেশীর হাড়ির খবর রাখা প্রকৃত রোজাদারের বৈশিষ্ট্য। ঈদের কেনাকাটায় বিলাসিতা কমিয়ে সেই অর্থ দিয়ে অভাবী মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং প্রতিদিন ঘুমানোর আগে নিজের কাজের আত্ম-হিসাব বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, জিহ্বাকে মিথ্যা ও গীবত থেকে মুক্ত রাখা, ঘরে কাজ করা মানুষের প্রতি সদয় হয়ে তাদের কাজের চাপ কমানো এবং অফিসের বড় সাহেব থেকে শুরু করে দরজার দারোয়ান—সবার সাথে সমান ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রমজানের প্রকৃত শিক্ষা জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে।
প্রযুক্তির খাঁচা বনাম হৃদয়ের স্পন্দন - আমরা ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছি। আমরা ভাবছি প্রযুক্তি আমাদের মুক্তি দেবে। কিন্তু এই প্রতিবেদনের প্রতিটি বাঁকে আমরা দেখেছি, প্রযুক্তি আমাদের মেধাকে হয়তো সচল করছে, কিন্তু আমাদের হৃদয়কে যান্ত্রিক করে দিচ্ছে। আমাদের প্রজ্ঞা আজ আমাদের বলছে—খাঁচা সোনার হলেও তা শেষ পর্যন্ত খাঁচাই। আমরা যদি প্রযুক্তির মায়াজালে বন্দি হয়ে আমাদের বাবা-মার দীর্ঘশ্বাস না শুনি, যদি বিদেশের ডলারে বাবা-মার একাকীত্ব ঢাকার চেষ্টা করি, তবে আমরা সফল নই, আমরা স্রেফ শিক্ষিত রোবট। শিক্ষা কেবল সার্টিফিকেটে নয়, শিক্ষা হলো অন্যের যন্ত্রণায় কাতর হওয়ার সামর্থ্যে।
ইনসাফের শেষ ডাক ও এক নতুন ভোরের প্রতীক্ষা - পরিশেষে, ২০২৬ সালের এই রমজান আমাদের জন্য একটি জ্বলন্ত আয়না। এই আয়নায় আমরা আমাদের কঙ্কালসার নৈতিকতা দেখতে পাচ্ছি। একদিকে আমরা উপবাস করি, অন্যদিকে আমরাই লেবুর দাম বাড়িয়ে দিই। একদিকে আমরা সিজদায় যাই, অন্যদিকে আমাদের নীরবতা যুদ্ধে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এই দ্বিচারিতা থেকে মুক্তি না পেলে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ কেবল একটি স্বপ্নই থেকে যাবে।
মানুষের পরিপূর্ণ সুফল তখনই নিশ্চিত হবে যখন আমরা ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের চেয়ে সামাজিক কল্যাণকে প্রাধান্য দেব। এই রমজান আমাদের যে ত্যাগের শিক্ষা দিল, তা যেন ঈদের চাঁদের সাথে সাথে মিলিয়ে না যায়। আমাদের পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি, আর আমাদের হৃদয় হতে হবে স্বচ্ছ। পৃথিবী আমাদের আমাদের ইফতারের আড়ম্বর দেখে বিচার করবে না, বিচার করবে আমরা আমাদের পাশের অসহায় মানুষটির জন্য কতটা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ইনসাফই হোক আমাদের আগামীর পথচলার একমাত্র পাথেয়।
লেখক
ড. তারনিমা ওয়ারদা আন্দালিব
সহকারী অধ্যাপক
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
দাউদ ইব্রাহিম হাসান
মাস্টার্স (অর্থনীতি)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

