

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকার দেশব্যাপী সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা কর্মসূচি শুরু করলেও দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ এর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের ঘোষণানুযায়ী, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে গত ১৪ মার্চ থেকে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কিন্তু কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার (১৪ মার্চ) খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম কিংবা প্রচারণা চোখে পড়েনি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানিতে মশা বৃদ্ধির আশঙ্কা
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানির চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অথচ এ ধরনের রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা চালানোর কথা রয়েছে। তবে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শত শত রোগীর উপস্থিতি, তবুও উদাসীনতা
স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যদি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত হালদার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো চিঠি পাইনি। তাই এ ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমেই প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম।”
এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজান পাটোয়ারী বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা মোটেও কাম্য নয়। একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা যদি অবগত না থাকেন, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, “যে দপ্তরের দায়িত্ব জনগণকে সচেতন করা এবং ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা, সেই দপ্তরের কর্মকর্তারাই যদি উদাসীন থাকেন, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগজনক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মন্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনিমা তরফদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ সারা দেশেই এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অনেক জায়গায় র্যালি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজ কর্মসূচিটি পালিত হলে ভালো হতো বলে আমি মনে করি।”
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তাই খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
