ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 26, 2026

সংবাদ প্রকাশের পর ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী ভাঙনরোধে উদ্যোগ গ্রহণ

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় গত ২১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে অনলাইন এবং ২২ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে ছাপা সংস্করণে "করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণের ঘরসহ শতাধিক পরিবার" শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলনন্দনপুর গ্রামের নাপিতপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ এলাকায় করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ভাঙনের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনের বিষয়টি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দিনভর নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ উদ্যোগের ফলে আপাতত ভাঙনের গতি কিছুটা কমেছে। তবে তারা বলছেন, সাময়িক এই ব্যবস্থা স্বস্তি দিলেও করতোয়া নদীর ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে জনপদ রক্ষায় দ্রুত টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া (৪৮) বলেন, "সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। তবে স্থায়ীভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা থেকেই যাবে।"

নাপিতপাড়া এলাকার বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, "বেশ কিছুদিন ধরে নদী ভাঙনের আতঙ্কে ছিলাম। এখন জিও ব্যাগ ফেলায় কিছুটা সাহস ফিরে পেয়েছি। প্রশাসন দ্রুত কাজ শুরু করায় আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবার আমাদেরকে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।"

১নং বুলাকীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান লাভলু বলেন, "সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলায় আপাতত ভাঙন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন করতোয়া নদীর এই অংশে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নই সময়ের দাবি।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, বর্তমানে কুলানন্দপুর এলাকায় বালুর বস্তা ফেলার যে কার্যক্রম চলছে, তা সম্পূর্ণ একটি আপতকালীন ও জরুরি ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সর্বমোট ৩ হাজার ৩০৮ টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো ফেলানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করার জন্য সিসি ব্লক বা রিভেটমেন্ট কাজের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন জানান, “নদী ভাঙনের খবর জানার পরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram