

শামসুল হক ভূঁইয়া, গাজীপুর: বয়সে তারা ছোট, কিন্তু তাদের ভাবনায় জায়গা করে নিয়েছে দেশের বড় বড় সমস্যা। বিদ্যুৎ ঘাটতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষির আধুনিকায়ন কিংবা নগরজীবনের পরিচ্ছন্নতা—এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছে তারা। কারও ভাবনায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বিশুদ্ধকরণ, কেউ ভাবছে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। আবার কেউ তৈরি করেছে ভাসমান কৃষি, স্মার্ট এগ্রিকালচার কিংবা স্বয়ংক্রিয় সড়কবাতির মডেল।
এমনই ৮০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬। ইকবাল সিদ্দিকী এডুকেশন সোসাইটির উদ্যোগে রোববার কচিকাঁচা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তির ধারণা তুলে ধরে।
মেলার স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে স্মার্ট এগ্রিকালচার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্মার্ট ক্লিন সোসাইটি, গ্রিনহাউজ প্রযুক্তি, উইন্ডমিলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন শোষণ, ভাসমান কৃষি প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় স্ট্রিট লাইটসহ নানা প্রকল্প। দেশের বিদ্যুৎ সংকট, পরিবেশদূষণ, কৃষি ব্যবস্থাপনা ও নগরজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চিন্তা থেকেই এসব প্রকল্প তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা।
সকাল ৯টায় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এডাপটিভ রিসার্চ ডিভিশনের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হাবিবুর রহমান মুকুল। পরে আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রকল্পের কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে অতিথিদের ধারণা দেয়।
মেলায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করে ‘স্মার্ট ক্লিন সোসাইটি’ প্রকল্পটি। এর মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির ধারণা তুলে ধরেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ফাহমিদা সুলতানা শিরিন।
নিজেদের প্রকল্প সম্পর্কে শিরিন জানায়, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের ধারণাও যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে রয়েছে অর্গানিক গার্ডেন। সেখানে উদ্ভিজ্জ উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করে গাছের পরিচর্যায় ব্যবহার করা যাবে। সংরক্ষিত পানিও বাগানে কাজে লাগানো সম্ভব। এভাবে পানি, জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করেছে তারা।
প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের একটি ধারণা তুলে ধরতে চেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
মেলার প্রকল্পগুলো দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি ড. মো. হাবিবুর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায়।
