

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র সমন্বয়হীনতায় কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরও পারাপারের জন্য মিলছে না ফেরি। ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকট দুর করতে বিআইডব্লিউটিএ ফেরি চলাচলের চ্যানেল খনন করায় ফিরে এসেছে প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা। নৌ-পথের ওই চ্যানেলকে সচল রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলমান রয়েছে। কিন্তু নাব্যতা সংকট কাটিয়ে নৌপথ প্রস্তুত হলেও দুই বিভাগের সমন্বয়হীনতায় ফেরি আসায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রুটটিতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা। গত ১৪ আগস্ট নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়। নাব্যতা সংকটে ফেরি বন্ধ থাকায় মেরামতের কথা বলে প্রথমে ফেরি কুঞ্জলতা ও পরে কদমকেও নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউএ)’র উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কুঞ্জলতা নামের একটি ফেরি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিআইডব্লিউটিসি’র দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন প্রকার পরিবহন পারাপার করে আসছিল। কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত স্থল বন্দর থেকে নৌ পথে ফেরি পার হয়ে ঢাকা যেতে সময় এবং আর্থিক ব্যয় কমে যাওয়ার ফলে অতি অল্প সময়ে উত্তরাঞ্চলে পণ্যবাহী পরিবহনের জন্য এই রাস্তাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
এতদিন কুঞ্জলতা ও কদম নামের ফেরি দুটি পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৪ জুলাই মেরামতের কথা বলে কুঞ্জলতাকে সরিয়ে নেয়ার পর প্রায় ৫১ দিন কদম নামের ফেরিটিই ছিল এই নৌপথের একমাত্র ভরসা। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর তারিখে মেরামতের অজুহাতে সেটিও সরিয়ে নেয়ায় চিলমারী-রৌমারী নৌপথ এখন সম্পূর্ণ ফেরিশূন্য।
বর্তমানে নাব্যতা সংকট কাটিয়ে নৌপথ প্রস্তুত হলেও দুই বিভাগের সমন্বয়হীনতায় ফেরি আসায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রুটটিতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫জুলাই থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফেরাতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে। তাদের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের কারিগরি পরামর্শে চিলমারী ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন সংকটাপন্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে খননকাজ পরিচালনা করে।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, এসব এলাকায় বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে।পলি জমে যাতে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলমান রয়েছে।
খননের পর নাব্যতা ফিরেছে মর্মে দ্রুত সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র পুরকৌশল শাখা(ড্রেজিং বিভাগ)। ফেরি সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)সমীর চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিআইডব্লিউটিসি’র চিলমারী নদীবন্দরের সহ-ব্যবস্থাপক(বাণিজ্য) ও এরিয়া ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ড্রেজিংয়ের পরপরই চ্যানেলটি সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.কামরুজ্জামান বলেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথের সংকটাপন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চ্যানেলে এখন ফেরি চলাচলে কোনো বাধা নেই।
বিআইডব্লিউটিসি’র চিলমারী নদীবন্দরের সহ-ম্যানেজার(বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, খনন বিভাগের প্রতিবেদন মোতাবেক মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। সেই সাথে ফেরি আসার জন্যও চিঠি দেয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক(বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান বলেন, নাব্যতার কথা আমরা জেনেছি। ফেরি পাঠানোর বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। চিলমারীর ফেরি দুটি ডকিং শেষ হলে ফেরি যাবে কিনা সে বিষয়ে আমরা বলতে পারবো।
