

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় সাতটি ‘সাব-জেল’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে কারা কর্তৃপক্ষ। উপজেলা পর্যায়ে থাকা চৌকি আদালতের আসামিদের স্থানীয়ভাবে রাখার পাশাপাশি জেলা ও কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোর ওপর বন্দির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কারা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় তিনটি, কক্সবাজারে দুটি এবং নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলায় একটি করে সাব-জেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় চৌকি আদালত থাকলেও এসব আদালতে হাজিরার জন্য বন্দিদের নিয়মিত জেলা বা শহরের কারাগার থেকে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের ব্যয় হয়, অন্যদিকে বন্দিদের পরিবহনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, উপজেলাগুলোতে সাব-জেল নির্মাণ করা হলে স্থানীয় চৌকি আদালতের আসামিদের সেখানেই রাখা সম্ভব হবে। ফলে জেলা শহর থেকে বন্দিদের আদালতে আনা-নেওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে জেলা ও কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোর ওপর বন্দির চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১২টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭৪২ জন।
এ ছাড়া রাঙামাটি জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৪৫ জন, বান্দরবান জেলা কারাগারের ১১৪, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের ৮১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের ৭৮০, কক্সবাজার কারাগারের ৮৩০, চাঁদপুর কারাগারের ৪৭৫, নোয়াখালী কারাগারের ৫০০ এবং লক্ষ্মীপুর কারাগারের ২৯৫ জন।
ফেনী জেলা কারাগার-১-এর বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৯২ জন এবং কারাগার-২-এর ধারণক্ষমতা ১৭২ জন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার বন্দি অবস্থান করেন। প্রতিদিন এসব কারাগারে প্রায় ৭ হাজার বন্দি থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া বলেন, ব্রিটিশ আমলে বিচারিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার উপজেলাগুলোতে চৌকি আদালত স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে এসব আদালতে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “চৌকি আদালতগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সাব-জেল নির্মাণের একটি প্রস্তাব কারা অধিদপ্তরে দেওয়া হয়েছে। এসব আদালতের আসামিদের শহরের কারাগারে না রেখে স্থানীয় সাব-জেলে রাখা গেলে বন্দিদের আনা-নেওয়ার ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্মঘণ্টার অপচয়ও কমানো সম্ভব হবে।”
কারা কর্তৃপক্ষের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে এসব সাব-জেল নির্মাণ করা গেলে বন্দিদের ধারণক্ষমতার সঙ্গে কারাগারগুলোর সামঞ্জস্য তৈরি হবে। পাশাপাশি জেলা ও কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোর ওপর অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমানো সম্ভব হবে।
