

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে সেবা না পাওয়ার পাশাপাশি নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের।
স্থানীয়রা জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। ইউনিয়নে ৬০ লাখের অধিক মানুষের বসবাস। তাদের একমাত্র সেবার জায়গা ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামীলীগ সমথির্ত চেয়ারম্যান আর পরিষদে আসেননি। এতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। ফলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে, যে সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান পদ শূন্য ওইসব ইউনিয়নে জনগনের সেবা দিতে স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্ব পালন করবেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিএডিসি (সেচ) কর্মকর্তা। তিনি দুই দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া সেবা নিতে এসে অনেককেই পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পেতে সময় লাগছে দীর্ঘদিন এমন অভিযোগ সেবা প্রত্যাশীদের।
অভিযোগ রয়েছে, পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কাঙ্খিত সেবা মিলছে না। কেউ কেউ আবার নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগও করেছেন। সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরছি। সময় মতো কাজ হচ্ছে না। এতে আমাদের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে অভিযোগ সেবাকারীদের। সেবা দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি পাশ কাটিয়ে যান। হয়রানি ও ভোগান্তি বন্ধ করে ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের নাগরিক সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত করা হোক দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, পরিষদের কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম করে টাকা নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি এবং তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। তবে দুই দপ্তরে কাজ করতে গেলে কিছুটা সমস্যা হয়।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন জানান, সেবা প্রত্যাশীদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। টাকার বিষয়টি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
