ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 9, 2026

পুঠিয়ায় শিক্ষকের মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে ক্লাস বর্জন, মহাসড়ক অবরোধ

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক শিক্ষকের মৃত্যু ঘিরে ডায়েরির লেখা থেকে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। গণিত শিক্ষক মো. শাহাদুল ইসলামের মৃত্যুর পর তাঁর হাতে লেখা ডায়েরির কয়েকটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তা ঘিরে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখার দাবিতে বুধবার ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভে নামেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একাংশ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের পরিবর্তে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, শাহাদুল ইসলামের ডায়েরিতে লেখা বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হোক। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার নেপথ্য সামনে আনা হোক।

পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মাহবুব সরকার জনি, শিক্ষকরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে মৌখিক সমঝোতার মাধ্যমে চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হবে। মৃত শিক্ষকের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া ও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তাঁর প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সব শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কিন্তু মাঠে সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কয়েকজন বহিরাগত ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ ঘোষণার বিরোধিতা করেন। এরপর প্রায় ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে সকাল ১১টা ২৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করেন। পুঠিয়া থানার ওসি তাঁদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে তাঁরা ফের বিদ্যালয় মাঠে ফিরে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দুপুর ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান।

ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি দেখতে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিদ্যালয়ে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করে তিনি ১২টা ২৫ মিনিটে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলীর নাম। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনই নিশ্চিত নয়। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহবুব সরকার জনির বক্তব্য, নিহত শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, শাহাদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. সারমিন জানিয়েছেন, তাঁর সামনেই শাহাদুল ইসলাম স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং তিনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাদ এই ঘটনায় জড়িত নন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফলে শিক্ষকের নিজের হাতে লেখা ডায়েরির বিষয়, শিক্ষার্থীদের তদন্তের দাবি এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকার বক্তব্য—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন নানা প্রশ্ন। আবেগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বদলে ডায়েরির বিষয়বস্তু, মৃত্যুর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবি উঠেছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram