

খালিদ হাসান, নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: জমি রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি, হস্তান্তরকৃত জমির মূল্য নির্ধারণে জটিলতা এবং মৌজা ভিত্তিক সরকার নির্ধারিত জমির মূল্য বেশি থাকায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের খোজাখালি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনে নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভুক্তভোগী জমির মালিক ও ক্রেতা-বিক্রেতারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় মোঃ ফেরদৌস খান বক্তব্যে অভিযোগ করেন, জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন ফি ও মৌজা ভিত্তিক নির্ধারিত মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনীয় জমি ক্রয়-বিক্রয় ও রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। জমি বিক্রিত মূল্যের চাইতে দলিল রেজিস্ট্রি খরচ বেশি হওয়ায় নলছিটির বিভিন্ন মৌজার জমি কেনা বেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ তার প্রাপ্য জমি বিক্রি করে প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। এতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে ইঞ্জিনিয়ার বাবুল বলেন, সরকার নির্ধারিত জমির মূল্য বাস্তব বাজার মূল্যের তুলনায় বেশি হওয়ায় জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও রেজিস্ট্রি মূল্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। এ কারণে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রিও কম হওয়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
জমি রেজিস্ট্রেশন ফি ও সরকারি মৌজার মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মৌজা ভিত্তিক জমির মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করে বাস্তবসম্মত করার দাবি জানান তারা।
মোঃ আবজাল মৃধা বলেন, পৌর এলাকায় উৎসকর বাবদ সরকারকে প্রতি শতাংশ ১০ হাজার টাকা দেয়া অতিরিক্ত ব্যয়, যা জমি ক্রেতাদের পক্ষে দেয়া কষ্টদায়ক। রজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো, মৌজা ভিত্তিক সরকারি নির্ধারিত জমির মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয় এবং পৌর এলাকায় জমি কেনা বেচার ক্ষেত্রে আয় কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা যুক্তিসঙ্গত নয়।
মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
