

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা-শোলক-বাটাজোর সড়কে ধামুরা খালের ওপর প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর অ্যাপ্রোচ বা সংযোগ সড়ক দ্রুত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় হাজারো নারী-পুরুষ। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সেতুটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধামুরা সেতুর সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে প্রয়োজনীয় অ্যাপ্রোচ সড়ক ও ঢাল নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় এটি এখনো সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। ফলে ধামুরা, শোলকসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার লাখো মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং জরুরি রোগীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জামাল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহাগ খান এবং শোলক ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক কামাল দেওয়ানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি খাস জমিতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করে সেতুটি জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এলজিইডির প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ধামুরা খালের ওপর ৪৪ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির চুক্তিমূল্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুক্তি বসুন্ধরা কনস্ট্রাকশন সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।

তবে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে জটিলতার কারণে এটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের জন্য ১৪৯১ ও ১৫১১ নম্বর দাগে সরকারি খাস জমি নির্ধারিত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস জমিতে প্রয়োজনীয় অ্যাপ্রোচ ও সেতুর দুই পাশের ঢাল নির্মাণ সম্পন্ন করা হলে কোনো ধরনের জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ছাড়াই সেতুটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব।
মানববন্ধনকারীরা অভিযোগ করেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে প্রায় ৭ কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও সংযোগ সড়কের অভাবে তা ব্যবহার করা না গেলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি অব্যবহৃত থাকায় নির্মিত অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে সেতুটি দীর্ঘ সময় অকেজো পড়ে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি চালু হলে ধামুরা, শোলক ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারবেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত সহজ হবে এবং রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সরকারি খাস জমিতে সেতুর অ্যাপ্রোচ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অচিরেই ধামুরা-শোলক সেতুর অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
