

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। নিয়মিত সবজি চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে অসময়ে তরমুজ ফলিয়ে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। গত কয়েক বছর ধরে অসময়ের এই তরমুজ বিক্রি করে অনেকের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরায় দিন দিন এলাকায় তরমুজ চাষের আগ্রহ ও পরিধি দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ জমিতে মূলত চিংড়ি ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করা হয়। এসব ঘেরের পাড়ে আগে শুধু লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, শসা ও টমেটো চাষ করা হতো। তবে এখন সবজির মাচায় ঝুলছে শত শত বর্ষাকালীন তরমুজ। অসময়ে বাজারে তরমুজের দারুণ চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। মাচায় ঝুলে থাকা নজরকাড়া তরমুজ কিনতে পাইকাররা এখন সরাসরি চাষিদের ক্ষেতেই ভিড় জমাচ্ছেন। ক্ষেত্র থেকেই তরমুজ কিনে চালান করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
শ্যামপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল বালা জানান, একসময় রবি বা শুকনো মৌসুমে তারা প্রচুর তরমুজ চাষ করতেন। কিন্তু পরপর কয়েক বছর টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের গাছ পচে গিয়ে লোকসান হওয়ায় তারা চাষ বন্ধ করে দেন। তবে বর্তমানে প্রযুক্তি ও নতুন জাতের কল্যাণে বর্ষা মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষায় তরমুজ চাষে খুব একটা খরচ করতে হয় না বলে এটি এখন বেশ লাভজনক একটি ফসল। একই গ্রামের কৃষক নির্মল মণ্ডল বলেন, আমি ১০ কাঠা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে এবং বাজারে বিক্রিও শুরু করেছি। বর্তমানে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি সব খরচ বাদ দিয়ে বড় অঙ্কের মুনাফা ঘরে তুলতে পারব। তাঁর মতো মাধব বৈরাগী (১৫ কাঠা), গিরিশ বৈরাগী (১ বিঘা) ও আনন্দ বৈরাগী (২ বিঘা) সহ এলাকার অসংখ্য চাষি এবার অসময়ে তরমুজ ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, উপজেলায় প্রায় ৪৯৫ বিঘা জমিতে বর্ষাকালীন তরমুজের আবাদ হয়েছে। চাষিরা উচ্চফলনশীল ছক্কা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এই জাতটির ফলন ও স্বাদ চমৎকার। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বর্ষার প্রাকৃতিক পানিতেই এর পানির চাহিদা মিটে যায়, ফলে বাড়তি সেচ বা বেশি অর্থ খরচ করতে হয় না। বর্তমানে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় কৃষকরা অসময়ের এই তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
