

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বিদঘুটে ঝাঁঝালো গন্ধ পেয়ে জ্ঞান হারান অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী। পরে অজ্ঞান হওয়া শিক্ষার্থীদের ১৫ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই একই বিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩), পারভিন আক্তার (১৫) সহ ১৫জন। এদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালি গ্রামে।
স্থানীয়রা ও বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, সকালে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয় সকাল দশটায়। এরপর হঠাৎ ৬ষ্ঠ, সপ্তম ও ৯ম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর তাদের জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জনের মত শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্ব ডাক্তার মানসুরুল হক জানান, দুপুর ২ টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জনকে আনা হয়। এদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকের এখনো জ্ঞান ফিরেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে যারা জ্ঞান হারান তাদের বাড়িতে যাওয়ার পর জ্ঞান ফিরে এসেছে। কিন্তু পরে যারা অজ্ঞান হন তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পরও জ্ঞান ফিরে আসেনি। তবে কি কারণে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছেন তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কিনা ১২ ঘন্টা হওয়ার পর বলা যাবে। এদের অনেকের জ্ঞান ফিরেনি। আমরা কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেছি। তবে রোগীর অভিভাবক এবং শিক্ষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে বিদঘুটে ও ঝাঁঝালো গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এদিকে অসুস্থ এসব শিক্ষার্থীকে দেখতে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন। শিক্ষার্থীদের অজ্ঞান হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে সাধারণ মানুষেরও অনেক ভিড় জমতে দেখা যায়।
