

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: সুস্বাদু খাবার হিসেবে কুমড়া বড়ির জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয়। মাছ-মাংসের পাশাপাশি খাবারের রসনা মেটাতে এর চাহিদার কোনো কমতি নেই। আবহমান কাল থেকেই গৃহস্থালির কাজের অংশ হিসেবে কুমড়াবড়ি তৈরির প্রচলন রয়েছে। এতদিন কেবল পরিবারের সবজির চাহিদা মেটাতে এটি তৈরি করা হলেও, বাগেরহাটের চিতলমারীতে এখন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কুমড়া বড়ি তৈরি করে আয়ের পথ খুঁজছেন অনেক নারী।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শীত ও কুমড়ার মৌসুমে অনেক বাড়িতেই বড়ি তৈরি ও রোদে শুকানোর ধুম পড়েছে। প্রধানত চাল কুমড়া, মূলা, মানকচু ও শশার মণ্ডের সাথে মাষকলাইয়ের ডাল মিশিয়ে এই বড়ি তৈরি করা হয়। তৈরি শেষে চালার চাটাই বা পাতলা কাপড়ে দিয়ে খোলা জায়গায় রোদ দেওয়া হয়। নিজের সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় নারীরা।
দুর্গাপুর গ্রামের সবজি চাষি সুব্রত মণ্ডল জানান, চিতলমারীতে প্রচুর পরিমাণে লাউ, কুমড়া, করলা ও শশাসহ নানা জাতের সবজি চাষ হয়। অনেক সময় জমিতে অবিক্রিত চাল কুমড়া থেকে যায়, যা দিয়ে সহজেই বড়ি তৈরি করা যায়। এতে একদিকে যেমন অপচয় কমে, অন্যদিকে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়।
উপজেলার ব্রহ্মগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সম্প্রতি স্মৃতি ভট্টাচার্য নামে এক গৃহবধূকে রোদে বড়ি দিতে দেখা যায়। তাঁর মতো অনেক নারীই এখন বাড়িতে বসে এই বড়ি বানাচ্ছেন। স্থানীয় বাজার ও পরিচিতদের কাছে প্রতি কেজি কুমড়া বড়ি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেকে অগ্রিম বায়নাও দিয়ে রাখছেন। লাভজনক এই পেশাকে স্থায়ী রূপ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন অনেক নারী।
স্থানীয় গৃহবধূ চম্পা হীরা ও মীরা রাণী জানান, চাল কুমড়া ও মাষকলাইয়ের ডাল দিয়ে তৈরি বড়ির স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়। এই বড়ি দিয়ে মাছের ঝোল রান্না কিংবা শুধু বিভিন্ন মসলা দিয়ে ভুনা করে খেলে অপূর্ব স্বাদ পাওয়া যায়। এলাকার নারীদের তৈরি এই সুস্বাদু বড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
