

শিব ব্রত চক্রবর্ত্তী, পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি: ফেনী-পরশুরামের আঞ্চলিক সড়ক এবং জেলা সদরসহ উপজেলার গ্রামীণ সড়কের আনাচে কানাচে অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের হাতে থাকা দ্রুতগতির যানবাহনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কোনো ধরনের ট্রেনিং ছাড়াই হলুদ অটো, ব্যাটারি চালিত রিকশা, এলপিজি সিএনজি ও মাহিন্দ্রা চালাচ্ছে তারা। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই এসব যানবাহন নিয়ে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কসহ গ্রামগঞ্জসহ ফেনীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা। দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে এই চালকরা কোনো ধরনের ট্রেনিং, লাইসেন্স ছাড়া চালিয়ে যাচ্ছে যানবাহন। বাড়ছে এখন যানবাহনের সংখ্যাও। দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামনে আরও ভয়াবহ অবস্থার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
এ বিষয়ে ফেনী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ কমিশনার অফিস সুত্রে জানা যায়, নগরীর যানজট ঠেকাতে এবং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি জব্দ করতে তাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া আগের চেয়ে বেশি চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।
ফেনী, ফুলগাজী ও পরশুরাম মিলে তিনটি হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, গত দুই মাসে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী থ্রি-হুইলার যানবাহনের দুর্ঘটনার শিকার। পরশুরাম বাশপুদুয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম ফেনী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, "গত সপ্তাহের বুধবার আমি রাস্তার পাশে একটি দোকানের সামনে দাঁড়ানো ছিলাম। হঠাৎ করে একটি ব্যাটারি চালিত টমটম দ্রুতগতিতে এসে আমার উপরে এসে পড়লে গুরতর আহত হই। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে জানা যায় ওই চালক অল্প কিছুদিন আগে টমটম চালানো শুরু করেছে। টমটম দ্রুতগতি থাকার কারনে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি চালক।"
এসব চালকের কারণে প্রতিদিন ঘটছে এমন বহু ঘটনা। শুধু আহতের ঘটনা নয়, নিহতের ঘটনাও ঘটছে।গত কয়েকমাসে সিএনজি ও তিন চাকা চালিত ব্যাটারি রিক্সার অদক্ষ চালকের হাতে বেপরোয়া গতির কারণে হতাহতের বহু ঘটনা ঘটেছে।
পরশুরামের বিলোনীয়ার বাসিন্দা সোহান বলেন, গত কিছুদিন আগে মোটরসাইকেলে করে তারা স্বামী-স্ত্রী যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি
সিএনজি তাদের কে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে তার স্ত্রী নিচে পড়ে যায় এবং কোমরে ও পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পায়। বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্হানীয় যাত্রীরা বলেন, বর্তমানে সড়কের চেয়ে যানবাহন বেশি দেখা যাচ্ছে। যে কারণে যানজট তো লেগেই থাকে। তাছাড়া অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কারণে আহত নিহতের ঘটনাও এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ যে কেউ চাইলেই একটি গাড়ি নিয়ে সড়কে নেমে যাচ্ছে। সড়কে যে কোনো যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে যদি ট্রাফিক পুলিশের নিয়ম মানতে বাধ্য করা হতো তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও কমতো দুর্ঘটনা।
তারা বলেন, বাস্তবতা হলো বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শ্রমিকের কাজ করা শ্রমিকরা এসে এসব যানবাহনের চালক সাজে। যাদের লাইসেন্স তো দূরের কথা কোনো ধরনের ট্রেনিং বা অভিজ্ঞতা পর্যন্ত নেই। তাছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রেও মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম-কানুন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ফেনী জেলা কার্যালয় সুত্র জানায়, আমরা চালক, যাত্রী এবং পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং রাস্তার পাশের স্কুলগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করছি। বিভিন্ন সময়ে চালকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। গাড়ির মালিকদেরকে অদক্ষ বা ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ না দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করার নির্দেশনাও আমরা দিয়ে থাকি। সড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় এই সুত্র।
