

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। দলের এক কর্মীর জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিজ কাঁধে বহন করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এখলাছুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নেন এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। জানাজা শেষে মরদেহ বহনের সময় তিনি নিজেই কাঁধে তুলে নেন প্রিয় সহকর্মীর লাশ। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানাজায় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ছাড়াও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে মরহুম এখলাছুর রহমান তালুকদারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। উপস্থিত মুসল্লি ও নেতাকর্মীরা মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়েও কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন যেভাবে একজন তৃণমূল কর্মীর মরদেহ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তা রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার প্রকাশ। তাদের মতে, নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, দুঃসময়ে কর্মী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই প্রকৃত অর্থে প্রতিফলিত হয়।
তারা আরও বলেন, দলের একজন কর্মীর শেষ বিদায়ে নেতার এমন উপস্থিতি ও মরদেহ বহনে অংশগ্রহণ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এতে দলের সঙ্গে কর্মীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহমর্মিতাও বাড়বে।
মরহুম এখলাছুর রহমান তালুকদারের মৃত্যুতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নেতাকর্মীরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—রাজনীতির মাঠে মতপার্থক্য থাকলেও মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এমন দৃষ্টান্তই তৃণমূল রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
