ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 31, 2026

মহেশখালীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কড়া নজরদারি, নেতৃত্বে ওসি আব্দুস সুলতান

সরওয়ার কামাল, মহেশখালী: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পায়নের ফলে এ অঞ্চলের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক, ডাকাতি ও মানবপাচার চক্রের তৎপরতাও দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বাস্তবতায় মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। থানা সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি, রাতভর মোবাইল টহল এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় উপকূলীয় বিভিন্ন ঘাট ও সাগরপথে মাদক পাচার, মানবপাচার, ডাকাতি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের দৃশ্যমান টহল ও অভিযানের কারণে অপরাধীদের প্রকাশ্য তৎপরতা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে মহেশখালী ও মাতারবাড়ী অঞ্চলের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা ঠেকাতেও সক্রিয় রয়েছে পুলিশ। শ্রমিক নিয়োগ, পরিবহন, বালু উত্তোলন, ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার এবং বিভিন্ন এলাকায় মাদক উদ্ধার করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। একই সঙ্গে নতুন করে কেউ যাতে মাদক ব্যবসায় জড়াতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মানবপাচার প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাগরপথ ব্যবহার করে বিদেশে পাঠানোর নামে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উপকূলীয় ঘাট, ট্রলার চলাচলের রুট এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ডাকাতি, মাদক ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে অপরাধের ধরন ভিন্ন। তাই নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা, জনসচেতনতা এবং কমিউনিটি পুলিশিং একসঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করতে এই অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অপরাধীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন মহল।

উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা মহেশখালীর মানুষ এখন প্রত্যাশা করছে, ওসি মো. আব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে চলমান এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে উপকূলজুড়ে অপরাধের অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ভেঙে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram