

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার প্রায় ৩ হাজার ৩০০ সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার করা হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে র্যালির মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’—স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিটি সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতা কোনো এক দিনের কর্মসূচি নয়, এটি জীবনযাপনের অংশ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, প্রতি শনিবার বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কর্মসূচির আওতায় জেলার ১৩১টি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামকে নান্দনিক জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ও প্রতি শনিবার কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে, তার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আগে ও পরের চিত্রও নথিভুক্ত করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন। আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কাউকে চাপ দিয়ে নয়, পরিচ্ছন্নতাকে স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মাসব্যাপী নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
